আন্তর্জাতিক

সেই শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কারা, যারা উনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন আরোএকটি প্রায়-পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনী বিজয় অর্জন করেছেন। দেশটির সর্বশেষ সংসদীয় নির্বাচনে তার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়া এবং সহযোগী দলগুলো ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৫তম সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলির সদস্য নির্বাচনের জন্য গত ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলটির সমর্থিত প্রার্থীরা প্রতিটি আসনে জয়লাভ করেছেন।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ মানুষ কিমের দলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সামান্য বেশি, অর্থাৎ ৯৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোটের কথা জানিয়েছে এবং ভোটার উপস্থিতি ছিল অসাধারণ- ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে মাত্র  শূন্য দশমিক ০০৩৭ শতাংশ বিদেশে বা সমুদ্রে কর্মরত থাকায় ভোট দিতে পারেননি এবং অতি ক্ষুদ্র একটি অংশ- প্রায় শূন্য .০০০০৩ শতাংশ, ভোটদানে বিরত ছিলেন।

নির্বাচনে কোনো বিরোধী প্রার্থী ছিলেন না। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদেরকে গ্রহণ বা বর্জন করার জন্য কেবল একজন পূর্ব-অনুমোদিত প্রার্থীকে দেওয়া হয়েছিল। এর অর্থ হলো, বাকি শূন্য দশমিক ০৭ শতাংশ ভোট কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দল বা নেতার পক্ষে যায়নি। বরং, এটি সেইসব ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করে যারা সরকারি প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘না’ ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুসারে, কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সংসদীয় নির্বাচনে প্রকাশ্যে ‘না’ ভোটের কথা স্বীকার করেছে,।  ১৯৫৭ সালের পর থেকে এই ‘না’ ভোট বন্ধ ছিল।

দেশের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, শ্রমিক, কৃষক, বুদ্ধিজীবী, সামরিক কর্মী এবং কর্মকর্তাসহ মোট ৬৮৭ জন প্রতিনিধি সর্বোচ্চ গণপরিষদে নির্বাচিত হয়েছেন। 

তবে, প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় কেবল একজনই প্রার্থী থাকেন, যিনি কিমের নেতৃত্বাধীন শাসকগোষ্ঠীর মাধ্যমে ইতোমধ্যেই অনুমোদিত। ভোটারদের সামনে একটি সহজ বিকল্প থাকে: হয় প্রার্থীকে অনুমোদন করা অথবা প্রত্যাখ্যান করা।

ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সির মতে, কেসিএনএ জানিয়েছে, শূন্য দশমিক ০৭ শতাংশ ভোটার প্রার্থীদের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।