রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘিরে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আজ দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ঈদের আর মাত্র একদিন বাকি থাকলেও সকালের পর থেকে টার্মিনালে ছিল না যাত্রীদের সেই চিরচেনা ভিড়। বরং অনেক বাস কাউন্টারের কর্মীদের যাত্রী খুঁজতে হাঁকডাক করতে দেখা গেছে। একইসঙ্গে কল্যাণপুর থেকে গাবতলী পর্যন্ত সড়কেও ছিল না স্বাভাবিক সময়ের মতো যানজট, যা নগরবাসীর স্বস্তি ফিরিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সরেজমিনে সকালের পর গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, ঈদ ঘনিয়ে এলেও যাত্রী চাপ অনেকটাই কম। টার্মিনালের ভেতরে নেই কোনো জটলা, হুড়োহুড়ি বা বিশৃঙ্খলা। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের দীর্ঘ ছুটির কারণেই মূলত এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি খাতে টানা সাত দিনের ছুটি ঘোষণার ফলে অনেকেই আগেভাগেই ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। এতে ঈদের ঠিক আগের দিনগুলোতে যাত্রীদের স্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়নি।
হানিফ পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার আকাশ হোসেন বলেন, “দীর্ঘ ছুটির কারণে যাত্রীরা আগেভাগেই চলে গেছেন। মঙ্গলবারের পর কিছুটা চাপ থাকলেও এখন আর তেমন যাত্রী নেই।”
একই চিত্র দেখা গেছে উত্তরবঙ্গগামী বাস কাউন্টারগুলোতেও। ঢাকা-রংপুর রুটে চলাচলকারী নাহিল পরিবহনের এক কর্মী বলেন, “যারা যাওয়ার তারা আগেই চলে গেছেন। এখন শুধু জরুরি প্রয়োজনে যারা আটকে গেছেন, তারাই যাচ্ছেন।”
পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানায়, সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের শঙ্কাও যাত্রী কমে যাওয়ার একটি বড় কারণ। বাস চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই আগে থেকেই যাত্রা সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আগেই ছুটি হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরাও সময়মতো ঢাকা ত্যাগ করেছেন।
এবারের ঈদযাত্রায় যাত্রী কমার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার প্রসার। অনেক যাত্রী এখন ট্রেন কিংবা পদ্মা সেতু ব্যবহার করে সহজেই নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। ফলে বাস টার্মিনালকেন্দ্রিক চাপ অনেকটাই কমে গেছে এবং যাত্রীদের ভিড় ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন রুটে।
এদিকে, যাত্রীদের মধ্যেও স্বস্তির ছাপ স্পষ্ট। কুড়িগ্রামগামী যাত্রী মমিন হোসেন জানান, “এই রুটে ভাড়া ৮৭০ টাকা, যা নির্ধারিত ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। কোনো অতিরিক্ত ভাড়া নেয়নি।” ভিড় কম থাকায় মমিন হোসেন নির্বিঘ্নে টিকিট সংগ্রহ করতে পেরেছেন বলেও জানান।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। গাবতলী টার্মিনালকেন্দ্রিক সড়কগুলোতে যানজটমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে পুলিশ ও র্যাব। টার্মিনালে স্থাপন করা কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এবারের ঈদযাত্রায় এক দিন আগে গাবতলী বাস টার্মিনালে দেখা গেছে এক ভিন্ন দৃশ্য—যেখানে নেই অতিরিক্ত ভিড়, নেই বিশৃঙ্খলা; বরং রয়েছে স্বস্তি, শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিকতা। এই পরিবর্তন নগরবাসীর জন্য যেমন স্বস্তিদায়ক, তেমনি ভবিষ্যতের পরিকল্পিত ঈদযাত্রার জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।