আগামীকাল ঈদ। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে শেষ মুহূর্তে বাড়ি ফিরছেন অনেকে। তবে আজ ঢাকার গাবতলী ও কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড প্রায় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক ফাঁকা দেখা গেছে। গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরছেন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, দুটি বাস টার্মিনালেই নেই আগের মতো ভিড়। অধিকাংশ বাস কাউন্টার ফাঁকা পড়ে আছে। কোথাও কোথাও দু-একজন যাত্রীকে নির্ধারিত বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অনেকেই এসে তাৎক্ষণিকভাবে টিকিট কেটে সহজেই যাত্রা করতে পারছেন।
তবে ঢাকার আশপাশের জেলা—যেমন মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জগামী কিছু যাত্রীর উপস্থিতি চোখে পড়েছে।
সামাদ মিয়া নামে এক যাত্রী যাবেন নাটোর। তিনি বলেন, “সকাল ৯টায় এসে ১০টার বাসের টিকিট পেয়েছি কোনো ঝামেলা ছাড়াই। বাড়তি ভাড়াও নেয়নি। রাস্তা ফাঁকা, আশা করছি দুপুরের মধ্যেই বাড়ি পৌঁছে যাব।”
চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী যাত্রী তরিকুল ইসলাম স্ত্রী ও সন্তানসহ গ্রামে যাচ্ছেন ঈদ করতে। তিনি বলেন, “ইচ্ছে করেই আজকের দিন বেছে নিয়েছি। ১৮ ও ১৯ মার্চ রাস্তায় প্রচণ্ড চাপ ছিল। তাই একদিন দেরি হলেও আরামে যাত্রা করতে পারছি।”
বাস কাউন্টারের কর্মীরাও একই চিত্র তুলে ধরেছেন। হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার মাস্টার আকাশ বলেন, “গত কয়েক দিন যাত্রীর চাপ সামলাতে হয়েছে। কিন্তু আজ পুরোই ফাঁকা। বিকেলের পর আমরাও বাড়ি চলে যাব।”
রজিনা পরিবহনের এক কর্মী জানান, “বেশিরভাগ মানুষ আগের দুই দিনেই ঢাকা ছেড়েছেন। আজ যারা যাচ্ছেন তারা তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারছেন।”
জানা গেছে, বিভিন্ন রুটে ভাড়াও স্বাভাবিক রয়েছে। ঢাকা-নওগাঁ রুটে নন-এসি বাসের ভাড়া ৬৯০ টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া ১,৭০০ থেকে ২,০০০ টাকা। ঢাকা-গাইবান্ধা রুটে নন-এসি ৭৫০ টাকা ও এসি ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকা। ঢাকা-রংপুর রুটে নন-এসি ৮৭০ টাকা এবং এসি ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা নির্ধারিত। এছাড়া, ঢাকা-দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও কুড়িগ্রাম রুটেও ভাড়া স্বাভাবিক রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ঈদযাত্রার শেষ দিনে ভিড় এড়িয়ে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন যাত্রীরা।