জাতীয়

ঈদযাত্রার চতুর্থ দিন: ভোগান্তি ছাপিয়ে নাড়ির টান

ঈদযাত্রার চতুর্থ দিনেও রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল যেন এক অদ্ভুত বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। একদিকে মানুষের উচ্ছ্বাস, অন্যদিকে বাড়তি ভাড়ার ভোগান্তির দীর্ঘশ্বাস। 

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল থেকেই ঘরমুখো মানুষের স্বাভাবিক চাপ। ভাড়া যা হোক যাত্রীদের বাড়ি যেতে হবে, এই সুযোগ নিয়েই কোথাও কোথাও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠছে।

বরিশালগামী যাত্রী সবুজ বলেন, ভাড়া ৫০০-৫৫০ টাকা, কিন্তু ৭৫০–৮০০ টাকা ছাড়া টিকিট দিচ্ছে না। ঈদের সময় বলে কিছু বলতেও পারছি না।

খুলনাগামী আরেক যাত্রী মুনিরা বেগম।  ক্লান্ত কন্ঠে বলেন, সকাল থেকে তিনটা কাউন্টার ঘুরছি। ৬০০ টাকার ভাড়ায় ৩০০ টাকা বেশি চাচ্ছে। কী আর করার, ছোট বাচ্চা বায়না ধরেছে, তাই বাড়তি ভাড়ায় বাড়ি যাচ্ছি। 

তবে সব জায়গায় একই চিত্র নয়, কিছু পরিবহন নির্ধারিত ভাড়াতেই যাত্রী তুলছে বলেও দেখা গেছে। তবুও সামগ্রিকভাবে বাড়তি ভাড়া যাত্রীদের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা সরিফুল হাসান বলেন, ঈদকে সামনে রেখে যাত্রী চাপ আজ স্বাভাবিক। আমরা নিয়মিত মনিটরিং করছি। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার প্রমাণ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, যাত্রীদের অভিযোগ জানাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং টার্মিনাল এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিবহন মালিক সমিতির সদস্য সানোয়ার হোসেন বলেন, ঈদের সময় একমুখী যাত্রী চাপ থাকে। অনেক বাস খালি ফিরে আসে। আবার কিছু রুটে সরাসরি বাস না থাকায় বিকল্প রুটে যাত্রী নিতে হচ্ছে। এতে ভাড়ার তারতম্য দেখা দিচ্ছে।

টার্মিনালের এক কোণে বসে থাকা দিনমজুর যায়েদ ইসলাম বলেন, টাকা বেশি লাগছে, কিন্তু না গেলে পরিবার কষ্ট পাবে। তাই কষ্ট করেই যাচ্ছি।

মাদারীপুরের আরেক যাত্রী  শুভ বলেন, ঈদযাত্রা মানেই শুধু আনন্দ নয়, বরং সংগ্রামেরও নাম। বাড়তি ভাড়া আর অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়েই ঘরে ফিরছেন মানুষ। যাত্রীদের প্রত্যাশা একটাই ভাড়া হোক স্বচ্ছ, যাত্রা হোক নিরাপদ। কারণ, এই পথ শুধু দূরত্ব পাড়ি দেওয়ার নয়, এটি নাড়ির টানে ফেরা মানুষের গল্প।