লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা দত্তপাড়া ইউনিয়নে পুনিয়ানগর গ্রামে আরমান হোসেন (৩১) নামে যুবকের পায়ের রগ কেটে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। গুরুতর আহত আরমানকে নোয়াখালীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দত্তপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের বহিষ্কৃত সদস্য হুমায়ুন কবির (৫৫) নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয় বলে ভুক্তভোগী জানিয়েছেন।
আরমান পুনিয়ানগর গ্রামের চৌধুরী বাড়ির মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। অভিযুক্ত হুমায়ুন একই গ্রামের ঠাকুর বাড়ির ফজলুল করিমের ছেলে। তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অভিযোগ রয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করে জেলা যুবদল।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে রাস্তার পাশে গাছের ডাল রাখাকে কেন্দ্র করে হুমায়ুনের সঙ্গে আরমানের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে হুমায়ুন তাকে মারধর করে। বিষয়টি চন্দ্রগঞ্জ থানা বিএনপির নেতাদের জানালে তারা আইনের আশ্রয় নিতে বলে। পরে আরমান বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘটনার দুদিন পর হুমায়ুন দ্বিতীয় দফায় তাকে মারধর করে। ঘটনাটি শুক্রবার (২০ মার্চ) পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে জানায় ভুক্তভোগী আরমান।
আরমানের স্বজনরা জানায়, থানায় অভিযোগ এবং মন্ত্রীকে বিষয়টি জানানোর কারণে হুমায়ুন আরো ক্ষিপ্ত হয়। শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে হুমায়ুনের নেতৃত্বে ১০-১২ জন লোকজন আরমানের উপর পুনরায় আক্রমণ করে। হামলাকারীরা তাকে ইট দিয়ে পায়ে আঘাত করে এবং ছুরি দিয়ে ডান পায়ে আঘাত করে। এতে তার পায়ের রগ কেটে যায়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে গুরুতর হওয়ায় নোয়াখালীর হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল করিম বলেন, আরমান আর হুমায়ুনের মধ্যে পূর্ব থেকে ঝামেলা রয়েছে। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ করে আরমান। পরে আরমান নাকি হুমায়ুনকে মারধর করেছে বলে জানায় হুমায়ুন। আজকে আবার হুমায়ুন ক্ষিপ্ত হয়ে আরমানের উপর হামলা করেছে। আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়া ঠিক হয়নি।