কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ঈদের নামাজ মসজিদে হবে নাকি ঈদগাহে—এমন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার জেরে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ এবার ঈদের নামাজ পড়তে পারেননি।
শনিবার (২১ মার্চ) সকালে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের চর এলঙ্গী আচার্য গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন - ওই গ্রামের ওসমানের ছেলে শাহিন ( ৩৫), মজিবরের ছেলে জিয়া (৩৭), লাবু প্রামাণিকের ছেলে মুসা (৪৫) ও মন্টু ( ৫৫), মন্টু প্রামাণিকের ছেলে জুয়েল (২৭), রবিউলের ছেলে রুবেল হোসেন (৩০), মুনার ছেলে আলম (৪৫) ও গফুর (৪০), শফিকের ছেলে শাকিল (২৫), আলমের ছেলে রিপন (২৬), আইয়ুবের ছেলে সরোয়ার (৪৫), সরোয়ারের ছেলে আশরাফুল (৩৫) ও হিরু প্রামাণিকের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন (৩৩)।
আহতরা কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল ও নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চর এলঙ্গী আচার্য গ্রামে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষের বসবাস। গ্রামের মানুষদের জন্য একটি মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠ রয়েছে। বৈরি আবহাওয়ার কারণে শনিবার সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। এজন্য ঈদগাহ কমিটি সকাল সাড়ে ৮টার পরিবর্তে ঈদের জামাত সাড়ে ৯টায় নির্ধারণ করে।
এ নিয়ে গ্রামবাসী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যান। মন্টু প্রামাণিকের নেতৃত্বে চর এলঙ্গী আচার্য জামে মসজিদে গ্রামের একাংশের মানুষ নামাজ শুরু করে দেন।
অপরদিকে, ঈদগাহ কমিটির পক্ষ থেকে আলম, গফুর, শাকিলসহ কয়েকজন তাদের ঈদগাহে আসার আহ্বানে যান। এ সময় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, “ঈদের নামাজ মসজিদে নাকি ঈদগাহে, এ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”