ঈদের দিন পটুয়াখালীর পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় ছিল দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। আজ রবিবার বিরাজ করছে নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া। তাই ঈদের দ্বিতীয় দিনের এমন মনোরম পরিবেশে হাজার হাজার পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে কুয়াকাটা।
শনিবার বিকেল থেকেই পর্যটকদের আনোগোনা বাড়তে শুরু করে। সৈকতে অবস্থানরত পর্যটকরা অনেকে সমুদ্রের ছোট ছোট ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালীতে মেতেছেন। অনেকে বেঞ্চিতে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। অনেক শিশু থেকে বয়স্ক পর্যটকরা বালু নিয়ে খেলায় মেতেছেন।
কেউবা আবার প্রিয়জনের হাত ধরে সৈকতের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ঘুরে দেখছেন। অনেকে আবার ওয়াটার বাইক, মোটরবাইক ও ঘোড়ায় চড়ে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখছেন।
তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, শুটকি পল্লী, ঝাউবন, চর গঙ্গামতি, লাল কাঁকড়া চর ও কাউয়ার চর সহ সব পর্যটন স্পটেই এখন পর্যটকদের বাড়তি আনাগোনা রয়েছে।
পুরো রমজান জুড়ে জনমানব শূন্য থাকা কুয়াকাটায় বর্তমানে পর্যটকদের এমন ভিড়ে উচ্ছ্বসিত পর্যটন ব্যবসায়ীরা। বিক্রি বেড়েছে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। বুকিং রয়েছে অধিকাংশ হোটেল-মোটেল। আগতদের নিরাপত্তায় সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে টুরিস্ট পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
ঢাকার নিউ পল্টন এলাকা থেকে আগত পর্যটক সগির আহমদ বলেন, ঈদের দিন রাতে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা থেকে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছি। সকাল এসে পৌঁছেছি। এখানে দারুন এক আবহাওয়া বিরাজ করছে। গরমও কম শীতও কম। এখানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন কেড়েছে।
দিনাজপুর থেকে আসা পর্যটক সোলায়মান সুলতান বলেন, বন্ধুরা মিলে কুয়াকাটায় আসা। এখন সমুদ্রের জোয়ার চলছে। আমরা বন্ধুরা মিলে ছোট বড় ঢেউয়ের সঙ্গে সাঁতার কাটছি। হৈ হুল্লোড়ে মেতেছি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্পট আমাদের বিমোহিত করেছে। আমাদের এই ভ্রমণ চিরদিন মনে থাকবে।
কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশ রিজিয়নের পুলিশ পরিদর্শক জয়ন্ত মন্ডল বলেন, পর্যটকদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় আমরা টুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা তৎপরতা রয়েছি। বিভিন্ন পর্যটন স্পটে আমাদের টুরিস্ট পুলিশের সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এছাড়াও নৌ-পুলিশ, থানা পুলিশ ও সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে কাজ করছে।