ঈদ উপলক্ষে পুরান ঢাকার বংশাল মিল্লাত স্কুলের সামনে থেকে নয়া বাজার পর্যন্ত সড়কজুড়ে বসেছে আনন্দমেলা। দিন পেরিয়ে সন্ধ্যা, এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত গানে, আলোকসজ্জায় আর মানুষের ভিড়ে জমে উঠছে এই আয়োজন। হাজার হাজার দর্শনার্থীর পদচারণায় পুরো এলাকা যেন রূপ নিয়েছে এক উন্মুক্ত উৎসব মঞ্চে।
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরের পর থেকেই মেলায় ভিড় বাড়তে থাকে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ভিড়ও যেন নতুন মাত্রা পায়। অনেক মানুষ পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে এসেছেন এই মেলায়। কেউ ঘুরতে, কেউ খেতে, আবার কেউ শুধুই উৎসবের আবহে সময় কাটাতে এসেছেন।
রাস্তার দুই পাশে সারি সারি দোকান। কোথাও ফুচকা আর চটপটির স্টলে ভিড়, কোথাও মিষ্টির পসরা—রসগোল্লা, জিলাপি, সন্দেশ। আছে বিভিন্ন ধরনের পিঠা, ঝালমুড়ি, কাবাবসহ নানান স্বাদের খাবারের আয়োজন। শিশুদের জন্য রয়েছে খেলনা, বেলুন, আর ছোট ছোট রাইড— নাগরদোলা, ঘোড়ার দোলনা, ট্রেন। রাইডগুলোতে শিশুদের ভিড় বেশি।
শুধু কেনাবেচা নয়, মেলার বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। অস্থায়ী মঞ্চে গানে গানে মুখর হয়ে উঠছে পুরো এলাকা। স্থানীয় তরুণদের কণ্ঠে জনপ্রিয় গান, আবৃত্তি আর নাচে দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে সময় কাটাচ্ছেন। হাততালি আর উচ্ছ্বাসে প্রতিটি পরিবেশনা হয়ে উঠছে প্রাণবন্ত।
মেলায় আসা স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদ মিয়া বলেন, “রাত পর্যন্ত এমন আয়োজন থাকায় কাজ শেষে পরিবার নিয়ে আসতে পেরেছি। বাচ্চারা খেলছে, আমরা ঘুরছি; ঈদের আনন্দটা যেন এখানে পূর্ণ হচ্ছে।”
গৃহিণী নাজমা আক্তার বলেন, “মহল্লার সবাই একসঙ্গে বের হয়েছি। অনেক দিন পর সবার সঙ্গে দেখা হচ্ছে। খুব ভালো লাগছে।”
বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসা তানভীর হাসান বলেন, “রাতে আলো আর গানের পরিবেশটাই আলাদা। আনন্দের অনুভূতি কাজ করছে।”
ফুচকার দোকানি সেলিনা বেগম জানান, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেচাকেনাও বাড়ছে। তিনি বলেন, “মানুষ খেতে আর ঘুরতে আসে। তখনই আমাদের বিক্রি ভালো হয়। এমন মেলা হলে আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীদের উপকার হয়।”
মহল্লাবাসীরাও এমন আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছেন। নয়াবাজার এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, “এই মেলা আমাদের এলাকায় প্রাণ এনে দিয়েছে। সবাই একসঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, এটাই বড় বিষয়।”
মেলার আয়োজক কমিটির সদস্য হাজী আরমান বলেন, “ঈদের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ। চেষ্টা করছি, যাতে নিরাপদ পরিবেশে সবাই উৎসব উপভোগ করতে পারেন।”
গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই ঈদ আনন্দমেলা শুধু বিনোদনের জায়গা নয়, এটি হয়ে উঠেছে মানুষের মিলনমেলা। বংশাল মিল্লাত স্কুল থেকে নয়া বাজার পর্যন্ত সড়কটি এখন আলো, গান আর মানুষের উচ্ছ্বাসে ভরা জীবন্ত উৎসব।