কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে আবারো মিয়ানমার থেকে শিশুসহ ১০ জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) ভোরে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত দিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পরে তারা উখিয়া উপজেলার জামতলী ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়। অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।
উখিয়ার ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি মোহাম্মদ সলিম এ তথ্য জানান।
এর আগে, গত ৯ মার্চ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতার মধ্যে মংডু থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেয় ছয় সদস্যের একটি রোহিঙ্গা পরিবার। তাদের মধ্যে দুজন নারী ও চারজন পুরুষ ছিলেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি মোহাম্মদ সলিম বলেন, “সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করা ১০ জন রোহিঙ্গা তার ক্যাম্পে অবস্থান করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
অনুপ্রবেশকারীরা হলেন- ছমুদা (১৮), সাবেকুন্নাহার (১৫), মো. সলিম (১৩), জবিউল্লাহ (১২), মো. আনোস (১১), জিয়াবুর রহমান (১০), শায়েকা (৮), উম্মে হাবিবা (৭), মো. ইসমাইল (৬) ও রেহেনা (৫)।
এদিকে, ৯ বছর পার হলেও এখনো একজন রোহিঙ্গাকেও স্থায়ীভাবে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। গত ১৫ মাসে নতুন করে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫৬ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে। সীমান্তের ওপারে আরো অনেক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় অবস্থান করছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এতে মানবিক সংকটের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, “সীমান্তে রোহিঙ্গাদের জড়ো হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য ভালো খবর নয়। প্রত্যাবাসনের মতো কোনো বাস্তব পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। মিয়ানমারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।”
উখিয়া ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ জুবাইর বলেন, “মিয়ানমারের পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। সেখানে থাকা রোহিঙ্গাদের তাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে বলে তাদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পে বসবাস করা দিনদিন কঠিন হয়ে উঠছে।”
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম জানান, নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়ে তিনি অবগত নন। খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রবেশ করে। বর্তমানে পুরোনোসহ উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি শিবিরে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।