ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি শেষে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে। তবে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় যাত্রীদের চাপ ছিল তুলনামূলকভাবে কম। এতে লোকাল বাস থেকে শুরু করে রাইড শেয়ারিং সেবার চালকদেরও অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
সাধারণত ঈদ শেষে এই সময়টায় টার্মিনালজুড়ে থাকে উপচে পড়া ভিড়, কিন্তু এবার দৃশ্য ছিল ভিন্ন। একের পর এক বাস ঢাকায় প্রবেশ করলেও যাত্রীর সংখ্যা ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় কম। অনেক বাসই অর্ধেক বা তারও কম যাত্রী নিয়ে রাজধানীতে ফিরছে।
শহরমুখী যাত্রীর চাপ কম থাকায় লোকাল পরিবহনগুলোতেও ছিল যাত্রী সংকট। একই চিত্র দেখা গেছে পাঠাও মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যেও—দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেকেই যাত্রী পাচ্ছিলেন না।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের ছুটি শেষ হলেও অনেকেই এখনো ঢাকায় ফেরেননি। কারণ হিসেবে তারা জানান, সরকারি ছুটির পরপরই আবার ২৬ মার্চসহ আরো কয়েক দিনের ছুটি থাকায় অনেকে মাঝখানের কর্মদিবসে ছুটি নিয়েছেন। ফলে সবাই একসঙ্গে ফিরছেন না। তবে বেসরকারি চাকরিজীবীদের অনেকেই ইতোমধ্যে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগেই ফিরেছেন।
সিলেট থেকে পরিবার নিয়ে ঢাকায় ফেরা আরিফ হোসেন বলেন, “ঈদের পর সামনে আবার কয়েক দিনের ছুটি থাকায় অনেকেই এখনো আসেনি। আমি প্রাইভেট চাকরি করি, তাই ভোগান্তি এড়াতে আগেই চলে এসেছি। ভাবছিলাম ভিড় থাকবে, কিন্তু রাস্তা একেবারেই ফাঁকা ছিল। কোনো কষ্ট ছাড়াই যাতায়াত করতে পেরেছি, এবারের ঈদযাত্রা বেশ স্বস্তিদায়ক ছিল।”
বরিশাল থেকে আসা আবুল কালাম হাওলাদার বলেন, “ছুটি বেশি থাকায় সবাই একদিনে ফিরছে না। কেউ আগে এসেছে, কেউ পরে আসবে। তাই চাপ কম মনে হচ্ছে। এতে যাত্রীরা আরামেই যাতায়াত করতে পারছে।”
বাস শ্রমিকরাও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। হবিগঞ্জ থেকে আসা একটি পরিবহনের চালক বাচ্চু মিয়া বলেন, “এবার যাত্রীর চাপ আগের মতো নেই। যানজটও কম। অনেক বাসই আসন খালি রেখে ঢাকায় ফিরছে।”
চট্টগ্রাম থেকে আসা একটি পরিবহনের সুপারভাইজার রাশেদ আলম বলেন, “অফিস-আদালত খোলার দিন হওয়ায় আমরা ভেবেছিলাম ভিড় থাকবে। কিন্তু বাস্তবে যাত্রী কম। কয়েকটি আসন খালি রেখেই ফিরতে হয়েছে। তবে শনিবার থেকে যাত্রীর চাপ বাড়তে পারে।”
এদিকে সায়েদাবাদ থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চলাচলকারী লোকাল বাসগুলোতেও যাত্রীর সংকট স্পষ্ট। অধিকাংশ বাসে দাঁড়িয়ে কোনো যাত্রী দেখা যায়নি, অনেক বাসই যাত্রী পাওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল।
মিরপুরগামী একটি বাসের সুপারভাইজার আজমত বলেন, “ঈদের আমেজ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তাই যাত্রী কম। আশা করছি, আগামী সপ্তাহ থেকে চাপ বাড়বে।”
অন্যদিকে পাঠাও চালক মহসিন হায়দার জানান, “দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বসে আছি, কোনো যাত্রী পাইনি। আয় কমে গেছে। তবে রাস্তা ফাঁকা থাকায় যাত্রী পেলে ঝামেলা ছাড়াই যাতায়াত করা যায়—এটা ভালো লাগে।”
সার্বিকভাবে দেখা গেছে, এবারের ঈদে ফিরতি যাত্রা ছিল তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। তবে ছুটি শেষে ধীরে ধীরে রাজধানীমুখী মানুষের চাপ বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।