আন্তর্জাতিক

আলোচনা নিয়ে কঠোর অবস্থানে ইরান

ট্রাম্পের ঘোষণার পরে ইরানের আলোচনার অবস্থান তীব্রভাবে কঠোর হয়েছে। মধ্যস্থতার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ইরানের বিপ্লবী বাহিনীর প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। আর এই মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা যদি একটি গুরুতর আলোচনার দিকে গড়ায়, তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে উল্লেখযোগ্য ছাড় দাবি করবে বলে তেহরানের তিনজন ঊর্ধ্বতন সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় ইরান শুধু যুদ্ধের অবসানই চাইবে না, বরং এমন কিছু ছাড়ও চাইবে যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সম্ভাব্য রেড লাইন বা অলঙ্ঘনীয় শর্ত হতে পারে। যেমন- ভবিষ্যতে সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার নিশ্চয়তা, যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ। এছাড়া ইরান তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করতেও অস্বীকার করবে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালানোর সময় চলমান আলোচনার ক্ষেত্রে তেহরানের জন্য এটি একটি রেড লাইন ছিল।

ট্রাম্প সোমবার বলেছিলেন, ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে ইতোমধ্যেই ‘খুব জোরালো আলোচনা’ করেছে। কিন্তু ইরান প্রকাশ্যে তা অস্বীকার করেছে।

তিনটি ঊর্ধ্বতন সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তি তৈরি হয়েছে কিনা, তা নিয়ে ইরান কেবল পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছে।

একজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা সোমবার জানিয়েছিলেন, যদিও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি, তবে মিশর, পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় দেশগুলো বার্তা আদান-প্রদান করছে। 

একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা এবং দ্বিতীয় একটি সূত্রও সোমবার জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ইসলামাবাদে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।

তিনটি ইরানি সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো আলোচনার আয়োজন করা হলে ইরান তাতে যোগ দিতে পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ঘালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে পাঠাবে। তবে তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কট্টরপন্থী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের হাতেই থাকবে।