রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। পাম্পগুলোতে ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় যানবাহন চালক ও সাধারণ গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেককে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে।
চাহিদা মতো ডিপো থেকে তেল না পেয়ে পাম্পগুলো বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মালিকরা। সোমবার (২৩ মার্চ) রাজশাহীর ৪৪টি পাম্পই ছিল বন্ধ। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) কয়েকটি পাম্পে তেল হয়েছে তাও সীমিতভাবে। তবে বিশৃঙ্খলা এড়াতে পেট্রোল পাম্পগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি করছে পাম্প মালিক সমিতি। এতে পাম্পগুলো বিশৃঙ্খলা কমবে।
রাজশাহী মহানগরী ও বিভিন্ন উপজেলার পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও অনেকেই জ্বালানি না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কোথাও কোথাও সীমিত আকারে বিক্রি হলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। নগরীর কুমারপাড়া ভদ্রা, এয়ারপোর্ট, শালবাগান, কাশিয়াডাঙ্গা তালাইমারীসহ বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, শত শত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অধিকাংশ চালক জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন না।
কৃষি উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার দুর্গাপুর উপজেলায় প্রজেক্ট আছে। প্রতিদিন ভোরে আমাকে মোটরসাইকেল নিয়ে যেতে হয়। আবার দুপুরের আগে ফিরে আসি। দৈনিক আমার দুই লিটার তেল লাগে। ইদের আগে থেকে আমি বিভিন্ন পাম্প ঘুরে তেল পাচ্ছি না। নগরীর শালবাগানে একটি পাম্পে দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে তেল পাইনি। এরপর কাশিয়াডাঙ্গার একটি পাম্পে গিয়ে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে শেষ সময়ে তেল পেয়েছি। এভাবে চললে তো সমস্যা। এটা পাম্প মালিকদের কারসাজি কিনা তাও বোঝা যাচ্ছে না।”
রাজশাহী পদ্মা অয়েল কোম্পানির উপব্যবস্থাপক আরিফুল ইসলাম বলেন, “রাজশাহী জেলার পদ্মা অয়েলের কয়েকটি পাম্পের জন্য আজ ১৮ হাজার লিটার করে পেট্রোল ও অকটেন দেওয়া হয়েছে। আর রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এই ছয় জেলার জন্য প্রতিদিন বরাদ্দ ৪৫ হাজার লিটার অকটেন, ৬৭ হাজার লিটার পেট্রোল ও ৩ লাখ ৩৭ হাজার লিটার ডিজেল।”
তিনি বলেন, “পাম্পগুলোতে তেলের সংকট হওয়ার কথা নয়। মানুষ হয়তো আতঙ্কে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল নিচ্ছে। এতে করেই তেলের সংকট তৈরি হচ্ছে। কেউ কেউ মজুত করছেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।” রাজশাহী জেলা পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান শিমুল জানিয়েছেন, পাম্পগুলোতে যা মজুদ ছিল রবিবার শেষ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার থেকে অনেক পাম্পে তেল আসা শুরু হয়েছে। অনেকে ডিপোতে গিয়ে তেল পাচ্ছেন না। তাই পাম্পেই নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একেকটা লরির ধারণ ক্ষমতা সাড়ে ১৩ হাজার লিটার। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে তিন হাজার লিটার। আমরা পরিবেশকদের বলেছি পর্যাপ্ত তেল দিতে।
তিনি আরো বলেন, “তেল বিক্রি শুরু হলে গ্রাহকদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা হতে পারে। পুলিশ দিয়ে কাজ হয় না। এজন্য আমরা জেলা প্রশাসককে বলেছি, যেন পাম্পগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। তা না হলে তেল বিক্রি করা সম্ভব হবে না।”
পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মনিমুল হক জানান, ঈদের পর তিন হাজার লিটার পেট্রাল আর তিন হাজার লিটার অকটেন দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বাঘাবাড়ি থেকে আনতে গাড়ি ভাড়া যাচ্ছে ১৫ হাজার টাকা। যে পরিমাণ কমিশন পাওয়া যাবে তা গাড়ি ভাড়ার মধ্যে চলে যাবে।