আন্তর্জাতিক

‘নিজেদের সঙ্গে আলোচনা করছেন নাকি?’ ট্রাম্পকে ইরানি সামরিক বাহিনীর খোঁচা

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। খবর আল-জাজিরার।

বুধবার (২৫ মার্চ) ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাগারি এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের কথিত ‘আলোচনা’ নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দেন।  

ইরানি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাগারি যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মাত্রা কি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখন নিজেদের সঙ্গেই নিজেরা আলোচনা করছেন?”

তিনি আরও বলেন, “আপনাদের ব্যর্থতাকে ‘চুক্তি’ বলে চালিয়ে দেবেন না।”

ফার্স নিউজের তথ্যমতে, জোলফাগারি বলেছেন যে, “আমাদের ইচ্ছা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত’ আগের তেলের দাম বা আগের অবস্থায় ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই।”

তিনি আরো যোগ করেন, “এটি তখনই সম্ভব হবে যখন ইরানি জাতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা আপনাদের নোংরা মস্তিষ্ক থেকে পুরোপুরি মুছে যাবে। প্রথম দিন থেকে আমাদের প্রথম ও শেষ কথা ছিল, আছে এবং থাকবে: আমাদের মতো কেউ আপনাদের মতো কারো সঙ্গে আপস করবে না। এখন নয়, কখনো নয়।”

এর আগে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ট্রাম্প সংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে ‘আলোচনা চালাচ্ছে’। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, তেহরান একটি শান্তি চুক্তি করতে আগ্রহী।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার যে হুমকি তিনি সম্প্রতি দিয়েছিলেন, তা থেকে তিনি সরে এসেছেন কারণ ‘আমরা এখন আলোচনা করছি।’

এই পরিবর্তনের কারণ জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, “তারা (ইরান) আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। তারা যুক্তিসঙ্গত কথা বলছে এবং ইতিমধ্যে একটি বড় ছাড় দিয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “আমি আগেভাগে বলতে চাই না, তবে তারা রাজি হয়েছে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র রাখবে না।” 

কার সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে জানতে চাইলে ট্রাম্প কারো নাম উল্লেখ করেননি, তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে তারা সঠিক লোকেদের সঙ্গেই কথা বলছেন কারণ তারা একটি মূল্যবান ‘উপহার’ পাঠিয়েছে।

তিনি বলেন, “তারা আমাদের একটি উপহার দিয়েছে, যা আজ এসে পৌঁছেছে। এটি অনেক বড় উপহার এবং এর মূল্য অনেক বেশি। উপহারটি কী তা আমি বলব না, তবে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং তেল ও গ্যাস সংশ্লিষ্ট।”

তিনি আরও যোগ করেন, “তারা বলেছিল তারা এটি করবে এবং তা ঘটেছে। কেবল তারাই এটি করতে পারত। এটি আমাকে দেখিয়েছে যে আমরা সঠিক লোকেদের সঙ্গেই আলোচনা করছি।”

ট্রাম্প পরে জানান যে, উপহারটি হরমুজ প্রণালী সংশ্লিষ্ট। তিনি আরও দাবি করেন যে, দেশটিতে ইতিমধ্যে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটে গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, “আমরা প্রকৃতপক্ষে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি। এটি বর্তমান শাসনব্যবস্থার মধ্যেই একটি পরিবর্তন।”

মূলত ট্রাম্পের এসব বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ‘যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে’ বলে ব্যাঙ্গ করল ইরানের সামরিক বাহিনী। বিবৃতিতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাগারি স্পষ্ট করে দিলেন, ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপোস করবে না’।