মাদক বিরোধী সংবাদ প্রকাশের জেরে ‘দৈনিক কালবেলা’ পত্রিকার কোনাবাড়ী প্রতিনিধি মো. মানিককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক মেম্বার রিয়াজ মাহমুদ তালুকদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে ভুক্তভোগীর স্ত্রী ও তার চাচাতো ভাই হামলার শিকার হন। পরে সাংবাদিকের স্ত্রী কাকলি থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মারধরের সময় সাংবাদিক মানিকের কাছ থেকে তার দুটি মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, একটি ব্যাগ ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যান রিয়াজ মাহমুদ তালুকদার ও তার সহযোগীরা।
থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মার্চ কালিয়াকৈর উপজেলার বরাব দক্ষিণপাড়া এলাকায় মাদক বিরোধী ও অসামাজিক কার্যকলাপ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক মানিক। এরপর থেকে তার ওপর ক্ষোভ তৈরি হয় গাজীপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ তালুকদারের। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে সাংবাদিক মানিক পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য কোনাবাড়ী উদ্দেশ্যে রওনা হন।
কালিয়াকৈর উপজেলার মধ্যপাড়া বেগমপুর কলেজ গেইট বাজারে সাংবাদিক মানিকের গতিরোধ করেন রিয়াজ মাহমুদ তালুকদার, তার ছেলে রাশেদ তালুকদার, রিনা বেগম, বেলাল উদ্দিন, রকি, সবুজ হোসেনসহ ৬-৭ জন। এ সময় তারা লোহার রড ও লাঠি দিয়ে সাংবাদিক মানিককে মারধর করেন। এতে সাংবাদিক মো. মানিকের ডান হাতের একটি আঙ্গুল ভেঙে যায়।
অভিযোগে আরো জানা যায়, ঘটনাস্থলে মানিকের ৯ বছরের মেয়ে মাহি তার বাবাকে আগলিয়ে ধরলে তাকেও মাটিতে ফেলে মারধর করে অভিযুক্তরা। এর কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মানিকের স্ত্রী কাকলি ও চাচাতো ভাই রাসেল। হামলার প্রতিবাদ করলে তাদেরকেও রিয়াজ মাহমুদ তালুকদার ও তার সহযোগীরা মারধর করে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. মানিক বলেন, “মাদক, সন্ত্রাস ও অসামাজিক কার্যকলাপসহ সমাজের সব অসংগতি তুলে ধরা আমার কাজ এবং দায়িত্ব। আমি যাতে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারি, এ জন্যই রিয়াজ মাহমুদ তালুকদার আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছেন। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।”
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে রিয়াজ মাহমুদ তালুকদার বলেন, “আমার সঙ্গে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। কেউ অভিযোগ করলে সেটা তার বিষয়। আমি কিছুই জানি না।”
বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়্যেদুল আলম বাবুল সাংবাদিকদের বলেন, “বিষয়টি জানলাম, আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দাকার নাসির উদ্দিন জানান, একটি অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।