জাতীয়

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সুইস রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি বৈঠক করেছেন। বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, পুলিশ সংস্কার এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে আসে।

বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে শুরুতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। এ সময় নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। আমরা প্রকৃত সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা নিশ্চিত করতে চাই। সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের অধিকার রয়েছে, তবে তা এমনভাবে করতে হবে যাতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়।” তিনি অতীত সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের সমালোচনাও করেন।

রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সংস্কারে সুইজারল্যান্ডের কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি সংসদকে কার্যকর করা এবং রাজনৈতিক পরিসরে শান্তিপূর্ণ বিতর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, ডিজিটাল প্রতারণা দমন এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সম্প্রতি অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল ফ্রড সামিট ২০২৬’-এ অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে বিশ্বে সংঘটিত প্রতারণার প্রায় ৪০ শতাংশই ডিজিটাল মাধ্যমে হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য।”

বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “দেশে উগ্রবাদ সীমিত পর্যায়ে থাকলেও তা সন্ত্রাসবাদে রূপ নেয়নি। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষায়িত ইউনিটগুলো দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে।”

আর্থিক খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি।” এ বিষয়ে একমত পোষণ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, “অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা যেকোনো দেশের উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি।”

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খান এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের কাউন্সেলর আলবার্তো জিওভানেত্তি উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া, পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক দফতরের (UNODC) দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ক্রিস্টিয়ান হোলজ পৃথক বৈঠক করেন।