আইন ও অপরাধ

১১৯ কো‌টি আত্মসাৎ, দুদ‌কের মামলায় মাসুদ উদ্দিন ও মে‌য়েসহ আসা‌মি ৪

ক্ষমতার প্রভাব খা‌টি‌য়ে ৭ হাজার ১২৪ মালয়েশীয় যাত্রীর কাছ থে‌কে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ বি‌ভিন্ন ধা‌পে সরকার নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অবৈধভাবে ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাৎ এবং বিদ‌শে পাচা‌রের অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও সা‌বেক এম‌পি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, তার মে‌য়ে তাসনিয়া মাসুদসহ ৪ জনকে আসা‌মি ক‌রে মামলা ক‌রে‌ছে দুর্নী‌তি দমন ক‌মিশন (দুদক)।

বুধবার (২৫ মার্চ) দুদ‌কের উপপরিচালক নুরুল হুদা কমিশনের ঢাকা জেলায় মামলা‌টি ক‌রে‌ছেন।

মামলার আসামিরা হ‌লেন-মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক এমপি, ফেনী-৩ ও প্রোপাইটার: ৫এম ইন্টারন্যাশলাল লি. (অংশীদার), বাড়ি নম্বর-৭৯ (লেভেল-৮), ব্লক- এম, (শিকদার প্লাজা), চেয়ারম্যান বাড়ি, বনানী, ঢাকা, পিতা-এন এ চৌধুরী, ঠিকানা: বাড়ি নম্বর-১৫৩, লেন-১, ডিওএইচএস, বারিধারা, ঢাকা, (২) নূর মোহাম্মদ আব্দুল মুকিত (৫৬), প্রোপাইটার: ৫এম ইন্টারন্যাশলাল লি. (অংশীদার), বাড়ি নম্বর-৭৯ (লেভেল-৮), ব্লক-এম, (শিকদার প্লাজা), চেয়ারম্যান বাড়ি, বনানী, ঢাকা; পিতা-মোহাম্মদ মোসলেম, ঠিকানা: আরিফ টাওয়ার, ৯ লিংক রোড, বাংলামোটর, ঢাকা, (৩) মেহবুবা আফতাব সাথি (৫৩), প্রোপাইটার: ৫এম ইন্টারন্যাশলাল লি. (অংশীদার), বাড়ি নম্বর-৭৯ (লেভেল-৮), ব্লক-এম, (শিকদার প্লাজা), চেয়ারম্যান বাড়ি, বনানী, ঢাকা:, পিতা-মৃত কাজী গোলাম ওমর, ঠিকানা: বাড়ি নম্বর-১০ (দ্বিতীয় তলা), রোড নম্বর-২/২, ব্লক-এফ, বনানী, ঢাকা। 

(৪) তাসনিয়া মাসুদ (৩৪), প্রোপাইটার: ৫এম ইন্টারন্যাশলাল লি. (অংশীদার), বাড়ি নম্বর-৭৯ (লেভেল-৮), ব্লক-এম, (শিকদার প্লাজা), চেয়ারম্যান বাড়ি, মামলার আসামিরা পরস্পর যোগসাজোশে ৭ হাজার ১২৪ জন মালেয়শিয়ায় প্রেরিত কর্মীর কাছ হতে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রতি কর্মীর নিকট হতে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অবৈধভাবে গৃহীত সর্বমোট ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা গ্রহণপূর্বক আত্মসাৎ করে অবৈধ পন্থায় অর্থপাচার করে, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে অভিবাসী কর্মী প্রেরণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকার ১৯ ডিসেম্বর ২০২১ মালয়েশিয়ার সরকারের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়াতে অভিবাসী কর্মী প্রেরণের পথ সুগম হয়। মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশের কর্মী গ্রহণের জন্য এদেশের ১০১টি এজেন্সির তালিকা মনোনয়ন দেন। উক্ত ১০১টি এজেন্সি গত আগস্ট, ২০২২ থেকে মালয়েশিয়া কর্মী প্রেরণ শুরু হয়ে ৩১ মে ২০২৪ পর্যন্ত মোট ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৪৭৭ জন কর্মী প্রেরণ করেছেন। উক্ত প্রতিটি কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। যার মধ্যে কর্মীর পার্সপোর্টের  জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১০ হাজার টাকা এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৭ হাজার ৫০০ টাকা।

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, নূর মোহাম্মদ আব্দুল মুকিত, মেহবুবা আফতাব সাথি ও তাসনিয়া মাসুদ পরস্পর মি‌লে ৫এম ইন্টারন্যাশলাল লি রিক্রুট এজে‌ন্সির মাধ‌্যমে ৭১২৪ জন‌কে মালয়েশিয়া পাঠায়। মালয়েশিয়া গমনকৃত কর্মীরা নিজ খরচে পাসপোর্ট ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলেও আসামিরা সরকার দলের মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে তাদেরকে পাসপোর্টের ফি বাবদ ১০ হাজার টাকা এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাবদ ৭ হাজার ৫০০টাকা ফেরত প্রদান না করে পরস্পর যোগসাজশে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে লাভবান হওয়ার হীন উদ্দেশ্যে রিক্রটিং এজেন্সির প্রতি অনুগ্রহ দেখিয়ে ও রিক্রুটেড শ্রমিকদের অবৈধ ভাবে ক্ষতি সাধনের করেছেন।

দুদ‌কের অনুসন্ধা‌নে মালয়েশিয়া গমনকৃত কর্মীদের নিকট আত্মীয় এবং সাব-এজেন্টদের মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় আরো দেখা যায় যে, আসামির প্রতিষ্ঠান প্রতিটি পরীক্ষায় সরকার নির্ধারিত অর্থের চেয়েও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত গ্রহণ করেছেন।

আসামিরা এই সময়ে ৭১২৪ মালয়েশিয়া প্রেরীত প্রতিটি কর্মী থেকে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নির্ধারিত অর্থের অতিরিক্ত দেড় লাখ টাকা করে মোট ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে অবৈধ পন্থায় অর্থপাচার করে, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।