বিশ্বকাপের আর মাত্র ৮১ দিন বাকি, অথচ সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখনও ঝুলে আছে। লিওনেল মেসি কি খেলবেন ২০২৬ বিশ্বকাপে? আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণই মেসির নিজের।
৩৮ বছর বয়সী মেসিকে নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই স্কালোনি বলেন, “এটা এমন একটি বিষয়, যার উত্তর কেবল মেসিই দিতে পারেন।” তবে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি যোগ করেন, “আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যেন সে দলে থাকে। ফুটবলের স্বার্থেই তার থাকা প্রয়োজন। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তারই। তার মানসিক অবস্থা, শারীরিক ফিটনেস; সবকিছুর ওপর নির্ভর করছে বিষয়টি।”
২০২২ বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টসেরা হয়ে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানো মেসি দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তার গোল সংখ্যা ১১৫। তাই তাকে ঘিরে প্রত্যাশাটাও স্বাভাবিকভাবেই আকাশছোঁয়া। স্কালোনি বলেন, “শুধু আর্জেন্টিনা নয়, পুরো বিশ্বই তাকে মাঠে দেখতে চায়। আমরাও চাই সে থাকুক। তবে কোনো তাড়াহুড়া নেই। সে যা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই দলের জন্য সেরা হবে।”
তবে আপাতত ভক্তদের জন্য স্বস্তির খবর- আসন্ন আন্তর্জাতিক সূচিতে মেসিকে দেখা যাবে। ২৭ মার্চ মৌরিতানিয়া এবং ৩১ মার্চ জাম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবেন তিনি। ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে বোকা জুনিয়র্সের ঐতিহ্যবাহী লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে। যদিও স্কালোনি জানিয়েছেন, মেসি শুরু থেকেই খেলবেন কি না, সেটি ম্যাচ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে ২৭ মার্চ কাতারে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যে ফিনালিসিমা হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে ম্যাচটি বাতিল হয়েছে। ফলে ঘরের মাঠে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারাটা বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন স্কালোনি। তার ভাষায়, “নিজেদের মাঠে মেসিকে খেলতে দেখা আর্জেন্টাইনদের জন্য সবসময়ই বিশেষ কিছু।”
স্কালোনির ঘোষিত ৩০ সদস্যের দলে রয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী ১৬ জন ফুটবলার। পাশাপাশি নতুন মুখ হিসেবেও সুযোগ পেয়েছেন কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড়। কোচ জানিয়েছেন, দলে জায়গা পেতে হলে সবারই থাকতে হবে সেরা ফিটনেস ও ফর্মে।
আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে আর্জেন্টিনা। এরপর গ্রুপ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।