দেশের পুঁজিবাজারের সদস্যভুক্ত চারটি বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়ম খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ লক্ষ্যে চারটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশের পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষার্থে কঠোর অবস্থানে রয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এরই অংশ হিসেবে চারটি বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে কমিশন। এর মধ্যে একটি মার্চেন্ট ব্যাংক ও চারটি ব্রোকারেজ হাউজ রয়েছে।
সম্প্রতি বিএসইসি এ সংক্রান্ত পৃথক পৃথক আদেশ জারি করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তদন্তের নির্দেশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড, গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজ লিমিটেড, প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড।
কমিশনের আদেশ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন মনে করে, পুঁজিবাজার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড, গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজ লিমিটেড, প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান পরিচালনা করা প্রয়োজন। তাই, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিনেন্স, ১৯৬৯ (১৯৬৯ সালের অধ্যাদেশ নম্বর ১৭) এর ধারা ২১, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ এর ধারা ১৭ক এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কমিশন দুইজন করে কর্মকর্তার সমন্বয়ে পৃথক পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা এই আদেশ জারির তারিখ থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন এবং কমিশনের কাছে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন অতিরিক্ত পরিচালক মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান ও সহকারী পরিচালক অমিত কুমার সাহা।
গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন অতিরিক্ত পরিচালক উম্মে সালমা এবং সহকারী পরিচালক মো. মতিউর রহমান।
প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন অতিরিক্ত পরিচালক মো. ওহিদুল ইসলাম ও সহকারী পরিচালক মো. মারুফ হাসান।
এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন উপ-পরিচালক মো. রফিকুন্নবী ও সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সাদেকুর রহমান ভূঁইয়া।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, “প্রতিষ্ঠানগুলোর নেগেটিভ ইকুইটি (ঋণাত্মক মূলধন), মার্জিন ঋণ প্রদান নীতিমালা, আর্থিক প্রতিবেদন এবং করপোরেট সুশাসনে অসঙ্গতি আছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হবে।’’
তদন্তে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।