পোষ্য কুকুর হারানোর বেদনা থেকেই জন্ম নিয়েছে এক ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ। ‘স্যান্ডি’ নামের প্রিয় কুকুরের স্মরণে প্রায় ৫০০ পথকুকুরকে রান্না করা ভাত ও মাংস খাইয়েছেন এক নারী। শুক্রবার (২৮ মার্চ) দিনভর কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে তিনি খাবার বিতরণ করেন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের মুসলিম পাড়ার বাসিন্দা দুই বোন নাতাশা ও তানিয়া। প্রায় সাত বছর আগে ঢাকা থেকে একটি বিদেশি জাতের কুকুরের ছানা এনে সন্তানের মতো লালন-পালন করেন তারা। ভালোবেসে নাম রাখেন ‘স্যান্ডি’। তিন মাস আগে জরুরি কাজে উত্তরবঙ্গে যাওয়ার সময় স্যান্ডিকে এক প্রতিবেশীর কাছে দত্তক রেখে যান তানিয়া। তবে, সঠিক খাবার ও চিকিৎসার অভাবে গত মঙ্গলবার মারা যায় স্যান্ডি।
প্রিয় কুকুরকে হারানোর শোক থেকেই কলাপাড়ায় ফিরে এসে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন তানিয়া। শুক্রবার স্যান্ডির স্মরণে প্রায় ৫০০ পথকুকুরকে ভাত ও মাংস খাওয়ানোর আয়োজন করেন তিনি। নিজ হাতে রান্না করা খাবার ভ্যানে করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে পথকুকুরের মাঝে বিতরণ করেন তানিয়া। তার মহৎ এ কাজে সহযোগিতা করেছে ‘এনিমেল লাভারস অব পটুয়াখালী’র কলাপাড়া শাখার সদস্যরা।
তানিয়া বলেন, “দীর্ঘ ৭টি বছর সন্তানের মতো স্যান্ডিকে লালন-পালন করেছি। ওকে হারানোর বেদনা আমরা কোনোভাবেই ভুলতে পারছি না। আমিসহ আমার পরিবারের সবাই শোকাহত। তাই, আমি ৫০০ কুকুরের মাঝে খাবার বিতরণ করেছি। স্যান্ডি অসুস্থ হওয়ার পর আমার প্রতিবেশীরা বিষয়টি আমাকে জানায়নি। এনিমেল লাভারের সদস্যরা আমাকে সহযোগিতা করেছে। আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।”
‘এনিমেল লাভারস অব পটুয়াখালী’র কলাপাড়া শাখার টিম লিডার বায়জিদ আহসান বলেছেন, “আমরা প্রায়ই বেওয়ারিশ কুকুর-বিড়ালের মাঝে খাবার বিতরণ করি। আজ এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। আমাদের এলাকার নাতাশা ও তানিয়া আপার পালিত একটি বিদেশি কুকুর মারা যাওয়ার পর তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং ৫০০ কুকুরের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। আমিসহ আমার টিমের সদস্যরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছি।”
তিনি বলেন, “প্রিয় পোষ্যের স্মৃতি থেকে জন্ম নেওয়া এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ আমি আর দেখিনি। সমাজের বিত্তবানদের প্রাণী কল্যানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।”
কলাপাড়া উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মারুফ বিল্লাহ খান বলেছেন, “চমৎকার এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ এটি। আমরা আমাদের আশপাশে অনেক সময় অনেক অভুক্ত কুকুর-বিড়াল দেখতে পাই। কিন্তু, এসব অসহায় প্রাণীদের পাশে আমরা কখনো এগিয়ে আসি না। আমি সবাইকে প্রাণী কল্যাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।”