পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস লিমিটেডের উৎপাদন সক্ষমতার অনেকাংশে ব্যবহার করতে পারছে না। ফলে বড় লোকসানের কবলে কোম্পানিটি। এ সমস্যা কাটিয়ে তুলতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষক।
কোম্পানিটির ২০২৫ সালের ৩০ জুন সম্পাত অর্থবছরের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষায় এমন তথ্য জানিয়েছেন নিরীক্ষক।
নিরীক্ষক জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সক্ষমতার ১৯.১০ শতাংশ উৎপাদন করতে পেরেছে ম্যাকসন্স স্পিনিং কর্তৃপক্ষ। এতে কোম্পানিটির নিট লোকসান হয়েছে ২২৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এ সমস্যা কাটিয়ে আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে কোম্পানিটির উৎপাদন প্রত্যাশিত পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। কোম্পানিটির ২০২৫ সালেল ৩০ জুন পুঞ্জীভূত লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা। আর ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, যা কোম্পানিটির ইক্যুইটি ও দায়ের ৮৪.৭১ শতাংশ।
কোম্পানিটি মূলত ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে লোকসানে রয়েছে। ওই অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি ৩.৯৩ টাকা করে মোট ৯৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা লোকসান হয়েছিল। এরপরে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ৩.৬৯ টাকা করে মোট ৮৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা লোকসান হয়। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ৯.৪২ টাকা করে মোট ২২৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা লোকসান হয়।
নিরীক্ষক আরো জানিয়েছে, বিভিন্ন গ্রাহকের কাছে ম্যাকসন্স স্পিনিংয়ের ৩২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে আর্থিক হিসাবে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে এক বছরের বেশি সময় ধরে আদায় হচ্ছে না এমন অর্থ রয়েছে। তারপরেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ কোনো সঞ্চিতি গঠন করেনি। এর মাধ্যমে লোকসান কম ও সম্পদ বেশি করে দেখিয়েছে কোম্পানিটি।
এদিকে, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে অবন্টিত লভ্যাংশ হস্তান্তর করেনি ম্যাকসন্স স্পিনিং। কোম্পানিটিতে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার অবন্টিত লভ্যাংশ রয়েছে।
কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তাদের আর্থিক হিসাবে মজুদ পণ্য হিসেবে ৩৬৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকার সম্পদ দেখিয়েছে। তবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষে সহযোগিতার অভাবে এ বিষয়ে নিরীক্ষক স্বশরীরে তার সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস লিমিটেড পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০০৯ সালে। ‘জেড’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ২৩৮ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সে হিসাবে কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ২৩ কোটি ৮২ লাখ ৩২ হাজার ৫৩৮টি। এর মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণির উদ্যোক্তা বা পরিচালক ব্যতিত বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ৭০ শতাংশ।