সবুজ বনভূমিবেষ্টিত গাজীপুরের শ্রীপুরে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় কাঁঠাল। উপজেলার প্রতিটি বাড়ি, স্কুলের প্রাঙ্গণ এবং রাস্তার পাশে রয়েছে কাঁঠালের গাছে। স্বাদের বিচারে এ কাঁঠালের আলাদা খ্যাতি রয়েছে দেশজুড়ে। সুস্বাদু ও উন্নত মানের হওয়ায় গাজীপুরের কাঁঠাল পেয়েছে ভৌগলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের মর্যাদা।
চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময় এই উপজেলায় গাছে গাছে ফলের রাজা কাঁঠালের ব্যাপক মুচি এসেছে। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে কাঁঠাল পাকতে শুরু করবে। আশানুরূপ মুচি আসতে দেখে সন্তুষ্ট চাষিরা। তারা আশা করছেন, এ বছর কাঁঠাল বিক্রি করে তারা অনেক টাকা উপার্যন করতে পারবেন।
সরেজমিনে শ্রীপুর পৌরসভা ও আশপাশের আটটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি গাছে ২০০ থেকে ৩০০টির মতো কাঁঠালের মুচি ঝুলছে। তবে কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত করার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সচেতন মহল মনে করছে, এখানেই একটি আধুনিক কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।
শ্রীপুর পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রমিজ উদ্দিন জানান, এবার প্রকৃতি অনুকূলে ছিল। তার ২০টি কাঁঠাল গাছে সমানভাবে ফল ধরেছে। এবছর কাঁঠাল বিক্রি করে তিন লাখ টাকা উপার্যন করতে পারবেন এমন আশা করছেন তিনি।
তেলিহাটি ইউনিয়নের টেংরা এলাকার হারুনুর রশিদ বলেন, “শ্রীপুরকে কাঁঠালের রাজধানী বলা হয়। এখানকার কাঁঠাল দেশের চাহিদা পূরণের পর প্রতিবছর বিদেশে রপ্তানি হয়। আমার বাড়ির আশেপাশে ১৬টি গাছে প্রচুর কাঁঠালের মুচি এসেছে। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে কাঁঠাল পাকবে। তখন এই ফলটি বিক্রি করে চার থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা আয় হবে এমটি আশা করছি।”