বিশ্বকাপের মঞ্চ সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুতি কতটা পোক্ত, তা যাচাইয়ের লক্ষ্যে মুখোমুখি হয়েছিল ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দুই শক্তি পর্তুগাল ও মেক্সিকো। কিন্তু আক্রমণভাগের ধারহীনতায় শেষ পর্যন্ত কোনো দলই জালের ঠিকানা খুঁজে পায়নি। গোলশূন্য ড্রয়ের এই লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল পর্তুগালের আক্রমণভাগের শূন্যতা। যেখানে ছিলেন না তাদের নির্ভরযোগ্য মুখগুলোর কেউ।
মেক্সিকোর ঐতিহাসিক স্তাদিও বেনোর্তে ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি শুধু দুই দলের জন্যই নয়, আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্টেডিয়ামের সক্ষমতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রায় ৮৩ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই মাঠেই অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের একাধিক ম্যাচ।
মাঠের খেলায় বলের নিয়ন্ত্রণে স্পষ্ট আধিপত্য দেখিয়েছে পর্তুগাল। ম্যাচজুড়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সময় বল তাদের দখলে ছিল। আক্রমণেও এগিয়ে ছিল তারা। মোট দশবার প্রতিপক্ষের গোলমুখে শট নিয়েছে। কিন্তু লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে মাত্র দুটি। যা তাদের আক্রমণের অকার্যকারিতার বড় প্রমাণ। অপরদিকে মেক্সিকো কম সুযোগ পেলেও পাল্টা আক্রমণে চেষ্টা চালিয়েছে। সাতটি শটের মধ্যে একটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়েছে তারা।
এই ম্যাচে পর্তুগালের সবচেয়ে বড় ঘাটতি ছিল তাদের আক্রমণভাগের নেতৃত্বে অনুপস্থিতি। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়কে ছাড়াই মাঠে নামে তারা। যদিও শক্তিশালী একাদশই সাজিয়েছিলেন কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। তবুও শেষ মুহূর্তের নিখুঁত সমাপ্তির অভাবে গোলশূন্য থাকতে হয়েছে দলটিকে।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ছন্দে থাকা মেক্সিকোও সুযোগ হাতছাড়া করেছে একাধিকবার। সর্বশেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়া দলটি এই ম্যাচে পরীক্ষামূলক কৌশল নিয়েই নেমেছিল। দুই দলই বেশ কয়েকজন নতুন ও বিকল্প খেলোয়াড়কে মাঠে নামিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা যাচাই করেছে। পর্তুগাল নয়জন এবং মেক্সিকো সাতজন বদলি খেলোয়াড় ব্যবহার করে তাদের বেঞ্চ শক্তিও পরীক্ষা করে দেখেছে।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর এই ম্যাচে গোলশূন্য থাকা পর্তুগালের জন্য কিছুটা হতাশার হলেও কোচিং স্টাফের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। বিশেষ করে তারকানির্ভরতা কমিয়ে আক্রমণভাগকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে স্পষ্টভাবে।
এখন সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। পরবর্তী প্রস্তুতি ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মাঠে নামবে পর্তুগাল। আর মেক্সিকোর প্রতিপক্ষ হবে বেলজিয়াম। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার এটিই শেষ সুযোগ। সেটি কতটা কাজে লাগাতে পারে, সেদিকেই নজর থাকবে সবার।