পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৫ দিন ধরে উপাচার্যশূন্য অবস্থায় রয়েছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে নানা সংকট, নেমে এসেছে স্থবিরতা। উপাচার্যের স্বাক্ষরের অভাবে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতনও আটকে আছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজস্ব ক্যাম্পাস থেকে দ্রুত উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-কর্মকর্তারা।
রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আয়োজিত মানববন্ধনে এই দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান বলেন, “২০০৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ছয়জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন, তবে তারা সবাই ছিলেন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত।”
তিনি অভিযোগ করেন, “বাইরে থেকে আসা উপাচার্যরা নিজেদের বিভাগ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়োগে অগ্রাধিকার দেন। ফলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী বিদেশে শিক্ষকতা করলেও নিজ প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাননি।” এর অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য নিয়োগ না হওয়াকে উল্লেখ করেন।
অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মীর খালেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, “এখন আর এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ছোট বলা যায় না। এখানে গ্রেড-১, গ্রেড-২ ও গ্রেড-৩ পর্যায়ের প্রায় ৩০ জনের বেশি অধ্যাপক রয়েছেন, যারা উপাচার্য হওয়ার যোগ্য।”
অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যারা এখানে ভিসি, প্রো-ভিসি বা ট্রেজারার হিসেবে আসছেন, তারাও একই গ্রেড থেকে আসেন। তাই নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য নিয়োগে বাধা কোথায় এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি মনে করেন, অভ্যন্তরীণভাবে উপাচার্য নিয়োগ করা হলে বিভিন্ন সমস্যার সহজ সমাধান সম্ভব।
লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেন, “গত ১৫ মার্চ উপাচার্যের পদত্যাগের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টি ভিসিশূন্য। এতে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। পরীক্ষার ফল প্রকাশ, সার্টিফিকেট উত্তোলনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে উপাচার্যের স্বাক্ষর প্রয়োজন হওয়ায় সবকিছু আটকে আছে। এমনকি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেতনও বন্ধ রয়েছে।” তিনি দ্রুত নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য নিয়োগের মাধ্যমে এই সংকট নিরসনের আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে আরো বক্তব্য দেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ফজলুল হক, ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খায়রুল আলমসহ অন্যান্য শিক্ষকরা।