সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে জাতীয় সংসদে আসার সুযোগ পাওয়াকে জীবনের সৌভাগ্য বলে মনে করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এই অবস্থানে থেকেও সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।
ঈদসহ বিভিন্ন ছুটির কারণে টানা ১৩ দিন বিরতির পর রবিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে এ দিন বৈঠক শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে কায়সার কামাল বলেন, সংসদের প্রতিটি সদস্যের অধিকার, মর্যাদা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে তিনি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ লক্ষ্যে তিনি দলীয় পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন বলে জানান।
যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ওয়েস্টমিনস্টার ধারার সংসদীয় চর্চা অনুসরণ করলে দেশে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
ডেপুটি স্পিকারকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। পরে সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের স্ত্রী দিলারা হাফিজ এবং যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোক্তার আলীর মায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়।
গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। ১৫ মার্চ দ্বিতীয় কার্যদিবস শেষে অধিবেশন ২৯ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ছিল। বর্তমান অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
অধিবেশনে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের শুরুতে ডেপুটি স্পিকার মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই আন্দোলন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত করেছে। আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আহতদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তিনি বলেন, কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী দলকে তিনি গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বর্তমান সংসদকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে কায়সার কামাল বলেন, এই সংসদের অনেক সদস্যই নির্যাতন, কারাবাস, নির্বাসন ও দমন-পীড়নের অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছেন, যা বিরল।