ব্যাপক অনিয়ম, কারসাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ২০২৫ সালের নির্বাচনকে ঘিরে। নির্বাচন নিয়ে অভিযোগপত্র দিয়েছে ঢাকার বিদ্রোহী ক্লাব ও নির্বাচন বয়কট করা সংগঠকরা। যা আমলে নিয়ে তদন্তে নেমেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা স্বাধীন তদন্ত কমিটি এরই মধ্যে বিসিবির একাধিক পরিচালক, নির্বাচন বয়কট করা প্রার্থী, ক্লাব সংগঠক, বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তদন্ত কমিটি চিঠি দিয়ে ডেকেছে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকেও। মাস খানেক মেলবোর্নে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আমিনুল ইসলাম শনিবার দেশে ফিরেছেন। রবিবার মিরপুরে হাজির হয়েছিলেন তিনি।
দুয়েক দিনের মধ্যেই আমিনুল তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হবেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদিকে, বিসিবির সহসভাপতি ফারুক আহমেদ এরই মধ্যে তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হয়েছে। সাবেক এই ক্রিকেটার নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তার মনোনয়ন জমা দিতে বিলম্ব হওয়ার বিষয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর ব্যাখ্যা দেন।
তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে তার মনোনয়ন দেরিতে জমা হয়েছে যা বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম, প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন ও নির্বাচন কমিশনারের অনুমতি নিয়ে জমা দিয়েছিলেন।
জানা গেছে, তদন্ত কমিটির কাছে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে এবং কারচুপির কোনো সুযোগ ছিল না বলে দাবি করেছেন।
আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে তদন্ত কমিটির কাছে। বিশেষ করে, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোর কাছে নিয়মবহির্ভূতভাবে কাউন্সিলরশিপ চেয়ে চিঠি দেওয়ার যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে, সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হবে। এছাড়া, মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়ে কেন বিসিবি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সেই উত্তরও দিতে হতে পারে।
শুধু বোর্ড সভাপতি নন, বিসিবি পরিচালক ফাইয়াজুর রহমান মিতু ও শানিয়ান তানিমকেও ডেকেছে স্বাধীন তদন্ত কমিটি। পরিচালনা পর্ষদের বাইরে থেকে ডাকা হয়েছে সাবেক সহসভাপতি মাহাবুবুল আনাম ও কাউন্সিলর ইমরোজ আহমেদকে।
এছাড়া নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্য– সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেইন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির প্রধান মো. সিবগাত উল্লাহ ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক দৌলতুজ্জামান খানকে কমিটিতে সাক্ষাৎকার দিতে বলা হয়েছে।
স্বাধীন তদন্ত কমিটির কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিচারপতি (অবসরপ্রাপ্ত) একেএম আসাদুজ্জামান। তার সঙ্গে সদস্য হিসেবে আছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সেলিম ফকির, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার নাসিরুল ইসলাম, ক্রীড়া সাংবাদিক এ টি এম সাইদুজ্জামান ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার সালেহ আকরাম সম্রাট।