লিবিয়ার একটি বন্দিশালায় দালালচক্রের নির্যাতনে মাদারীপুরের দুই যুবক নিহত হয়েছেন। ইউরোপে নেওয়ার প্রলোভনে কাতার ও সৌদি আরব হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। কয়েক দফায় মুক্তিপণ নেওয়ার পরও প্রাণ হারান তারা। এখন মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আকুতি জানিয়েছেন স্বজনরা।
নিহতরা হলেন, কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ জনারদন্দি এলাকার কালাম হাওলাদারের ছেলে ইলিয়াস হাওলাদার (২৫) এবং ডাসারের গোপালপুর ইউনিয়নের বিনতিলুক গ্রামের মৃত সেকেন হাওলাদারের ছেলে ফারুক হাওলাদার (৩৫)।
পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াস কয়েক বছর আগে জীবিকার তাগিদে কাতারে গিয়েছিলেন। পরে দালালের প্রলোভনে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় পৌঁছান। সেখানে তাকে একটি বন্দিশালায় আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় প্রায় ২০ লাখ টাকা আদায় করা হলেও শেষ পর্যন্ত গত ২৩ মার্চ নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে তিনি মারা যান।
ইলিয়াসের বাবা কালাম হাওলাদার বলেন, “আমার ছেলে কাতারেই ভালো ছিল। দালালের কথায় লিবিয়ায় গেছে। অনেক কষ্ট করে টাকা দিলাম, তবুও আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না।” মা রানু বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে আর পাব না, শুধু তার লাশটা দেশে ফেরত চাই।”
অন্যদিকে, ফারুক হাওলাদার চার মাস আগে সৌদি আরব হয়ে লিবিয়ায় যান। তাকে বন্দিশালায় আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে জানানো হয়। পরে ১৮ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
ফারুকের মা মালেকা বেগম বলেন, “আমার ছেলেডা আর বাঁচে নাই। ওরে ছাড়া কেমনে থাকমু? ওর ছোট ছোট বাচ্চার কী হবে?” ফারুকের শাশুড়ি নাজমা বেগম বলেন, “প্রথমে লাশ দেশে আসুক, তারপর বিচার চাইব।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ডাসার ও কালকিনির বিভিন্ন এলাকার যুবকদের লিবিয়া হয়ে ইউরোপ পাঠানোর জন্য একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে। বন্দিশালায় আটক অবস্থায় পরিবার থেকে মুক্তিপণ আদায় করা এবং শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।
মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ বলেন, “দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং বিদেশে উচ্চ আয়ের প্রলোভন তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ পথে ঠেলে দিচ্ছে। বৈধ প্রক্রিয়া এড়িয়ে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা প্রায়শই প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।