সারা বাংলা

সিলেটে জ্বালানি তেল নিয়ে প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের ভিন্ন সুর

সিলেটে জ্বালানি তেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভিন্নমুখী বক্তব্যে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। প্রশাসনের দাবি, জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই, কিছু অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। অন্যদিকে পেট্রোল পাম্প মালিক ও ডিলারদের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ না পাওয়ায় বাস্তবেই সংকট তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিলেট মহানগর পুলিশের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, জ্বালানি তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই। বরং ভুল তথ্য, গুজব এবং কিছু ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে সংকটের ধারণা তৈরি করা হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে এবং পাম্পগুলোতে অপ্রয়োজনীয় ভিড় তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, তেল আছে কিন্তু কেউ যদি বলে তেল নেই, তখন মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এতে করে হাঙ্গামা তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত দায়টা সরকারের ওপরই পড়ে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে, তবে সরকারের আন্তরিকতা ও বাস্তব চিত্র সঠিকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে কয়েকটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। মোটরসাইকেলে জ্বালানি নিতে হলে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, নিবন্ধিত যানবাহন এবং চালকের হেলমেট পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে নগরের ৩৮টি পেট্রোল পাম্পে দিন-রাত মিলিয়ে প্রায় ১৫০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার জানান, ডিপো থেকে পাম্পে যাওয়ার পথে তেল চুরি বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, মাঝপথে তেল সরিয়ে নেওয়া বা মজুদদারি প্রমাণিত হলে বিশেষ ক্ষমতা আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

তবে প্রশাসনের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন পেট্রোল পাম্প মালিকরা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিলেট বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রিয়াসাদ আজিম আদনান বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি প্রশাসনের বক্তব্যের সঙ্গে মিলছে না।

তিনি বলেন, চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। গত বছরের তুলনায় এবার চাহিদা অনেক বেড়েছে, কিন্তু বরাদ্দ সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে পাম্পগুলোতে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিমাণ তেল না পেয়ে পাম্প মালিকদের প্রশাসনের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে।

বিজিবি মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিপোতে এমনভাবে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে যেন যুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে। এতে মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

নগরীর উত্তরা পেট্রোলিয়ামের জেনারেল ম্যানেজার মারুফ আহমেদ জানান, অনেক সময় ধরেন ১০ হাজার লিটার তেলের প্রয়োজন থাকলেও সরবরাহ করা হচ্ছে তার অর্ধেক। অথচ পরিবহন খরচ একই থাকায় আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া গ্রাহকের চাহিদা বেশি থাকায় তেল প্রয়োজন অনেক তবুও আমরা সংকট কাটিয়ে উঠে গ্রাহকসেবা অব্যাহত রেখেছি।