আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলি হামলায় নৌবাহিনী প্রধানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করল আইআরজিসি

ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরসিজি) আজ সোমবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি শত্রু বাহিনীর হামলায় শাহাদাত বরণ করেছেন।

ইসরায়েল গত সপ্তাহে তাংসিরিকে হত্যার দাবি করার চার দিন পর ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য প্রকাশ করল। খবর সিএনএনের। 

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, কমান্ডার তাংসিরি যখন উপকূলীয় এলাকা ও কৌশলগত দ্বীপগুলোতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন, তখনই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তবে হামলার সঠিক সময় বা স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে তাংসিরিকে একজন ‘নিবেদিতপ্রাণ ও অক্লান্ত যোদ্ধা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সামরিক বাহিনীতে প্রায় পাঁচ দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার ছিল তার। সম্প্রতি শত্রু পক্ষের অবকাঠামো ধ্বংস ও একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার অভিযানেও তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) মতে, তাংসিরি ছিলেন হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপন ও নৌ-অবরোধ তৈরির মূল কারিগর। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের সাম্প্রতিক লড়াইয়ে তিনি ছিলেন সম্মুখ সারির নেতা। বিশেষ করে কৌশলগত এই জলপথটি প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার পেছনে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান ব্যক্তি। 

নেতৃত্বের এই বড় ক্ষতি সত্ত্বেও দমে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আইআরজিসি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আইআরজিসি এ ধরনের আত্মত্যাগে অভ্যস্ত। তাংসিরির অনুপস্থিতি আমাদের অভিযানে কোনো প্রভাব ফেলবে না। হরমুজ প্রণালিসহ সব কৌশলগত এলাকায় ইরানি নৌবাহিনী আগের মতোই সক্রিয় থেকে শত্রুদের মোকাবিলা করবে।”

আইআরজিসি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সৈয়দ মোজতবা খামেনি, দেশটির জনগণ এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। সেই সঙ্গে তারা তাদের ভাষায় ‘শত্রুদের পরাজয়’ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।