২০১৮ সালের জাতীয় দলের অধিনায়ক থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের টিকিট পেয়ে সাংসদ হন মাশরাফি বিন মর্তুজা। পরের বছর বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশকে। ২০২৪ সালেও নড়াইল-২ আসন থেকে সাংসদ হন। একই বছর সাকিব মাগুরা-১ থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। খেলা চলাকালীন দুজনের সংসদ নির্বাচনে যাওয়া নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয় চারদিকে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এটি আরও জোরালোভাবে সামনে আসে। সাকিব সরকার পতনের আগের থেকেই দেশের বাইরে। এরপর দেশে ফেরার চেষ্টা করেও পারেননি। মাশরাফি আছেন আত্মগোপনে। রাজনীতির মাঠে পা বাড়িয়ে দেশের দুই কিংবদন্তির পরিবর্তিত পরিস্থিতি ভাবাচ্ছে অনেককেই। সোমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খেলোয়াড়দের কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি না হতে আহ্বান করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, বিসিবির সহ সভাপতি ফারুক আহমেদ। তার সাফ কথা, তারকাখ্যাতি কাজে লাগিয়ে রাজনীতির প্রয়োজন নেই।
সোমবার সন্ধ্যায় মিরপুরে ফারুক আহমেদ বলেছেন, ‘‘আমি মনে করি তারকাখ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতি করা উচিত না। রাজনীতি অধিকার তাই তো? মনে করেন আপনি হয়তো কোনো না কোনো দলের সমর্থক কিংবা কর্মী। আপনার রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকবে। কিন্তু আপনি যদি খেলার সময় রাজনীতি চালিয়ে যেতে চান,… এটা একদম আইন করে বন্ধ করে দেওয়া উচিত। আমার মনে হয় প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন সেটাতে আমি পুরোপুরি একমত।’’ খেলা ছাড়ার পর রাজনীতিতে আপত্তি নেই ফারুকের, ‘‘আপনি খেলা ছাড়ার পরে রাজনীতি করুন। অনেক উদাহরণ আছে এটা। আপনি খেলা ছাড়বেন, একসময় রাজনীতি করবেন। আমাদের কিছু খেলোয়াড় এই সমস্যায় ভুগছেন, আপনারা সবাই জানেন, নাম বলার প্রয়োজন মনে করি না আমি। এইটা যে হয়েছে আগামীতে আমরা তা দেখতে চাই না আসলে।’’
খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শতাধিক ক্রীড়াবিদকে বেতনকাঠামোর আওতায় এনেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার তেজগাঁওয়ে নিজের কার্যালয়ে ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এদিন ১২৯ জন খেলোয়াড়ের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ফারুক আহমেদের বিশ্বাস, সরকারের এমন উদ্যোগে আগামী দিনে আরও ভালো ক্রীড়াবিদ পাবে বাংলাদেশ,
‘‘আমি সত্যিই অত্যন্ত আনন্দিত। আজকের প্রোগ্রামটি ছিল অত্যন্ত ভিশনারি এবং সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনামূলক। অনেক সময় আমরা দেখি, কোনো অনুষ্ঠান মানেই কিছু পুরস্কার বিতরণ, কিছু বক্তব্য, তারপর সমাপ্তি। কিন্তু আজকের আয়োজন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী, সরকার ক্রীড়াক্ষেত্রে কী করতে চায়, এসব বিষয় খুব পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে।’’
‘‘ক্রীড়াকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা, বৃত্তি চালু করা, খেলোয়াড়দের জন্য ভাতা নির্ধারণ করা। আমার মনে হয়, এগুলো সত্যিই একটি মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। কারণ, এখন একজন খেলোয়াড় শুরু থেকেই জানবে। সে যদি প্রতিভাবান হয়, তাহলে তার আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে পারে। তাকে আর চিন্তা করতে হবে না পরিবার কীভাবে চলবে বা নিজের ভবিষ্যৎ কী হবে। এতে তার একাগ্রতা এবং লক্ষ্য দুটোই আরও দৃঢ় হবে।’’
‘‘আজকের এই উদ্যোগও তেমনই, একটি নতুন দিগন্তের সূচনা। এখন একজন খেলোয়াড় ক্যারিয়ারের শুরুতেই ভাবতে পারবে, সে পেশাদারভাবে খেলাধুলাকে বেছে নিতে পারে এবং সেখান থেকে সম্মানজনক জীবন গড়তে পারে। এই উদ্যোগের সুফল রাতারাতি পাওয়া যাবে না। এর ফল পেতে সময় লাগবে- চার, ছয় বা সাত বছর পর আমরা এর প্রকৃত প্রভাব বুঝতে পারব। তবে যেকোনো বড় পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিকভাবে শুরু করা। আর আমি মনে করি, আজ সেই গুরুত্বপূর্ণ শুরুটা হয়ে গেছে।’’