সারা বাংলা

ঠাকুরগাঁওয়ে কারাগারে থেকে বেতন তুলছেন ভূমি অফিসের কর্মচারী

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট-বৈরচুনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক রবি রায় তিনটি পৃথক মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে গত এক বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন। তিনি নিয়মিতভাবে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঠাকুরগাঁওয়ের বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালত সেশন ২১৭/২০, সিআর-৬৮৬/১৯ মামলায় রবি রায়কে ৬ মাস এবং সেশন ৩৩১/২৩, সিআর-৩৬৩ (রাণীশংকৈল) মামলায় আরো ৬ মাসের সাজা দেন। এছাড়া, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালত সেশন ৬৭০/২২, সিআর-২৮৯/২২ মামলায় তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দুই বছরের সাজা নিয়ে তিনি কারাভোগ শুরু করেন, যা এখনো চলমান।

সরকারি বিধি অনুযায়ী, কোনো কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে থাকলে তার চাকরি স্থগিত বা বরখাস্ত হওয়ার কথা। তবে, বাস্তবে রবি রায়ের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূমি অফিসের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। যদি এমন হয়ে থাকে, তবে এটি গুরুতর অনিয়ম। এর পেছনে প্রভাব বা দুর্নীতির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। 

জাবরহাট-বৈরচুনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি কর্মকর্তা সোহরাওয়ার্দী জানান, রবি রায় দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এন এম ইশফাকুল কবির বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানা আছে। তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে, তবে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

মানবাধিকারকর্মী নুর আফতাবুল বলেন, “যারা নিয়ম মানার কথা বলেন, তারাই যদি অনিয়মে জড়ান, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ঘটনা সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি প্রকাশ করে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) গোলাম ফেরদৌস বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানা আছে। দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”