দেশের প্রতিটি মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা পুনরায় মনে করিয়ে দিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, সেবাই হোক পেশার মূল চেতনা।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত ড্রাগস, ডিভাইসেস অ্যান্ড সার্জারির মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে হার্ট ফেইলিউর ব্যবস্থাপনা শীর্ষক প্রথম আন্তর্জাতিক হার্ট ফেইলিউর সম্মেলন ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রায় ১৮ কোটি মানুষের এই দেশে চিকিৎসকদের ভূমিকা কেবল পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি সামাজিক অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার থেকেই চিকিৎসকদের আরও মানবিক, আরও দায়বদ্ধ হয়ে রোগীদের পাশে দাঁড়াতে হবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশে হৃদরোগ এখন আর নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির রোগ নয়। ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ সবাই এর ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই প্রতিরোধ ও চিকিৎসা দুই ক্ষেত্রেই সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।’’
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজেস (এনআইসিভিডি) পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘হৃদরোগীর তুলনায় দেশে বিশেষজ্ঞ কার্ডিওলজিস্টের সংখ্যা এখনও কম। এ বাস্তবতায় বিদ্যমান বিশেষজ্ঞদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে কীভাবে এই খাতের উন্নয়ন সম্ভব, সেই পথ তাদেরই দেখাতে হবে।’’ এ সময় তিনি নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি দক্ষ কার্ডিওলজিস্ট বাড়ানো, চিকিৎসা অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে বিশেষায়িত সেবা পৌঁছে দিতে সমন্বিত উদ্যোগের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘‘দেশের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে চিকিৎসক, ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং সরকার এই তিন পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মানবিকতা দিয়েই এই পেশার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।’’
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. শফিউদ্দিন। সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হার্ট ফেইলিউর অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি হয়েছেন অধ্যাপক ডা. আতাহার আলী, সাধারণ সম্পাদক ডা. ডিএমএম ফারুক ওসমানী খোকন এবং কোষাধ্যক্ষ ডা. এস এম ই বাকের।
এ ছাড়া কার্ডিওলজিতে বিশেষ অবদানের জন্য অধ্যাপক ডা. কে এম এইচ এস সিরাজুল হক এবং অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলামকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে ডা. শহিদুল হকের লেখা হার্ট ফেইলিউর বিষয়ক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে দেশি-বিদেশি প্রায় ৮০০ কার্ডিওলজিস্ট অংশ নেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞরা এতে অংশগ্রহণ করে হার্ট ফেইলিউর ব্যবস্থাপনার আধুনিক দিকগুলো তুলে ধরেন।
সম্মেলনের আগে চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং কার্ডিয়াক এমআরআই বিষয়ক বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।