সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলে পিছিয়ে বিরতিতে গেছে বাংলাদেশ। শুরুটা দারুণ আশাব্যঞ্জক হলেও মাঝামাঝি সময়ে এক মুহূর্তের ভুলেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় হাভিয়ের কাবরেরার দল।
ভিয়েতনামের বিপক্ষে আগের ম্যাচের একাদশ থেকে দুটি পরিবর্তন এনে দল সাজান কোচ কাবরেরা। একাদশে ফেরেন শেখ মোরছালিন। আর গোলবারে দায়িত্ব পান মিতুল মারমা। ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের খেলায় ছিল ছন্দ ও আত্মবিশ্বাসের ছাপ।
প্রথম ১৫ মিনিটে বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশই। এই সময়েই দু’টি উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বিশেষ করে ১৪ মিনিটে ডান প্রান্তে দারুণ ওয়ান-টু খেলার পর সাদ উদ্দিনের নিখুঁত ক্রস থেকে সমিত সোমের হেড ছিল গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি মুহূর্ত। তবে তার হেডটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যাওয়ায় হতাশ হতে হয় বাংলাদেশকে।
অন্যদিকে সিঙ্গাপুর শুরুতে কিছুটা চাপে থাকলেও ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে। ২০ মিনিটে ইকসান ফান্দির দূরপাল্লার জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন মিতুল মারমা। এরপর ২৬ মিনিটে কর্নার থেকেও একটি সুযোগ তৈরি করে স্বাগতিকরা, যদিও সেটি বড় কোনো বিপদে রূপ নেয়নি।
ম্যাচের গতিপথ বদলে যায় ৩১ মিনিটে। মাঝমাঠ থেকে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে আসে সিঙ্গাপুর। কুয়েহর নেওয়া শক্তিশালী শট প্রথমে ঠেকালেও বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি মিতুল। ফিরতি বলে ইকসান ফান্দি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বল বাড়িয়ে দেন হারিস স্টুয়ার্টের কাছে। সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি স্টুয়ার্ট। নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে এগিয়ে দেন সিঙ্গাপুরকে।
গোল হজমের পর কিছুটা চাপের মুখে পড়লেও হাল ছাড়েনি বাংলাদেশ। ৩৯ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে লম্বা থ্রো ইন থেকে তৈরি হয় আরেকটি সুযোগ, তবে দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর দ্রুত পাল্টা আক্রমণে মোরছালিনের শট প্রতিহত করেন সিঙ্গাপুরের ডিফেন্ডার বাহারুদ্দিন। ফিরতি বলে ফাহিম শট নিতে গেলে ডি-বক্সে বাধার মুখে পড়েন। যদিও বাংলাদেশের জোরালো পেনাল্টির আবেদন নাকচ করে দেন রেফারি।
প্রথমার্ধের শেষদিকে সিঙ্গাপুরও ধাক্কা খায়, কুয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন এবং তার বদলি হিসেবে নামেন ইলহান ফান্ডি। যোগ করা তিন মিনিটে আর কোনো পরিবর্তন আসেনি স্কোরলাইনে।
সব মিলিয়ে প্রথমার্ধে ভালো শুরু করেও সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা এবং রক্ষণে এক মুহূর্তের ভুল; এই দুই কারণেই পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যেতে হয়েছে বাংলাদেশকে। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে হলে আক্রমণে আরও নিখুঁত হতে হবে কাবরেরার শিষ্যদের।