রাজনীতি

জুলাই আন্দোলনকে বিপক্ষে দাঁড় করানোর প্রবণতা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থি: পার্থ

জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় সরব হন বিএনপি জোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।

তিনি বলেন, “বর্তমান সংসদ একটি ‘ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি’ তৈরি করেছে, যেখানে রাজনৈতিক বিতর্ক ও মতপার্থক্য আরো তীব্র হয়ে উঠেছে।”

মঙ্গলবার সংসদের অধিবেশনে বিধি-৬২ অনুযায়ী আলোচনায় অংশ নিয়ে পার্থ অভিযোগ করেন, “শুরু থেকেই জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এক ধরনের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ভিন্নমত প্রকাশ করলেই সেটিকে ওই আন্দোলনের বিপক্ষে দাঁড় করানোর প্রবণতা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থি।”

সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “যদি সত্যিকার অর্থে একটি মৌলিক পরিবর্তন বা নতুন সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্য থাকত, তাহলে তখনই একটি বিপ্লবী বা অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা যেত।”

বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বক্তব্যে পার্থ দাবি করেন, “জুলাই আন্দোলন একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন নেতা ও কর্মীরা দীর্ঘদিনের সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন, কেউ এককভাবে কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন না।”

তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জেন-জিকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শে সীমাবদ্ধ করে ফেলা উচিত নয়। তার ভাষায়, তরুণদের উচিত স্বাধীনভাবে চিন্তা করা এবং কোনো একটি রাজনৈতিক ধারার প্রভাবের মধ্যে নিজেদের আবদ্ধ না করা।”

এ প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, “তরুণদের যেন ‘একপাক্ষিক রাজনৈতিক পরিচয়ের’ দিকে ঠেলে দেওয়া না হয়।”

সংসদে বক্তব্যে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।”

গণভোটের কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “একাধিক বিষয় একসঙ্গে উপস্থাপন করলে ভোটারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা সীমিত হয়ে যায়। এমন প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

বক্তব্যের শেষাংশে পার্থ জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “দেশের স্বার্থে সব পক্ষকে একসঙ্গে বসে আলোচনা করতে হবে এবং মতপার্থক্য থাকলেও সেটি সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।”