সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র বিতর্কের মধ্যে এটিকে ‘ভয়েড অ্যাব ইনিশিও’ বা শুরু থেকেই অবৈধ বলে আখ্যা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ আদেশের কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই; বরং এটি অন্তর্বর্তী সরকারের একটি ‘জাতীয় প্রতারণার দলিল।”
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংসদে বিরোধীদলীয় এক সদস্যের আনা মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়েজাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ নিয়ে সরব হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই আদেশ আইনগতভাবে টেকসই নয় এবং এর জন্মই অবৈধ।” তার ভাষায়, এটি ভয়েড অ্যাব ইনিশিও অর্থাৎ শুরু থেকেই বাতিলযোগ্য।
‘ভয়েড অ্যাব ইনিশিও’ একটি ল্যাটিন আইনি শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ হলো ‘শুরু থেকেই বাতিল’ বা ‘সূচনা থেকেই অকার্যকর’। এই নীতি অনুযায়ী, কোনো চুক্তি বা আইনি দলিল তৈরির সময় থেকেই তা অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়। এর মানে হলো, চুক্তিটি আইনি দৃষ্টিতে কখনো অস্তিত্বে ছিল না এবং এর ফলে কোনো আইনি অধিকার বা বাধ্যবাধকতা তৈরি হয় না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ বসার পর সংবিধানের চতুর্থ তফসিল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়। ফলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন কোনো আদেশ জারির সাংবিধানিক ভিত্তি নেই।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতিকে অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতা দিলেও সংবিধানের কোনো বিধান পরিবর্তন বা রহিত করার সুযোগ দেয় না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “অথচ আলোচিত আদেশের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সংসদের এখতিয়ার খর্ব করার চেষ্টা হয়েছে, যা সাংবিধানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।”
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, “ব্যালটে এমনভাবে প্রশ্ন সাজানো হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়। তিনটি গ্রহণযোগ্য বিষয়ের সঙ্গে একটি বিতর্কিত প্রশ্ন যুক্ত করে সেটিকে গ্রহণ করানোর চেষ্টা করা হয়েছে।”
এ সময় সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সংবিধানে এমন কোনো পরিষদের অস্তিত্ব নেই এবং এ ধরনের শপথের কোনো আইনি ভিত্তিও নেই।” অর্থাৎ তার ভাষায়, এটি ভয়েড অ্যাব ইনিশিও।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সংসদ সদস্যদের কাছে এ ধরনের শপথ ফরম পাঠানো সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল। তিনি সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।”
তবে সংস্কার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, বিএনপি সংস্কারের বিপক্ষে নয়। ২০২৫ সালের জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে যে ঐকমত্য হয়েছে, তা সংসদে আলোচনা করে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা এমন সংস্কার চাই, যা সংবিধানসম্মত এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখে।”