জাতীয়

সংবিধান-আইন মানুষের জন্য, তার জন্য মানুষ নয়: বিরোধীদলীয় নেতা

সংবিধান ও আইন মানুষের জন্য, তার জন্য মানুষ নয়- এই বক্তব্যকে সামনে রেখে সংবিধান সংস্কার নিয়ে সমঝোতার পথ খুঁজতে সরকারি ও বিরোধী দলের সমান প্রতিনিধিত্বে বিশেষ কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান।

জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কারকে ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নয়, বরং সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি কার্যকর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংস্কার এগিয়ে নেওয়া উচিত।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংসদের অধিবেশনে জুলাই সনদ নিয়ে আনা একটি মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই প্রস্তাব দেন। স্পিকার অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে ডা. শফিকুর সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থা এড়াতে সংলাপের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “সংবিধান ও আইন মানুষের জন্য, মানুষ সংবিধান ও আইনের জন্য নয়।”

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনেক সিদ্ধান্তই সংবিধানের প্রচলিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে নেওয়া হয়েছে, যার বিরোধিতা তারা তখন করেননি দেশের স্বার্থে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদে অচলাবস্থা তৈরি না করে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো জরুরি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে গণভোটের দাবি থাকলেও পরে তা নির্বাচনের সঙ্গে এক দিনেই সম্পন্ন হয় এবং নির্বাচন কমিশন এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে।

সংস্কার পরিষদে সংসদ সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিতর্কের জবাবে তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্ট গেজেটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও বিবেচিত হবেন।”

এ ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থানকে ‘স্ববিরোধী’ বলে ইঙ্গিত করেন তিনি।

সরকারি দলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আসুন, একটি বিশেষ কমিটি গঠন করি। সেখানে সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষ থেকে সমানসংখ্যক সদস্য থাকবেন। তাহলে আমরা সবাই মতামত দেওয়ার সুযোগ পাব। শুধু সংখ্যার জোরে কমিটি গঠন করলে তা কার্যকর হবে না।”

বিরোধীদলীয় নেতা আরো বলেন, তাদের দল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করতে চায় না; বরং গঠনমূলক ভূমিকা রেখে জাতীয় স্বার্থে যেখানে প্রয়োজন, সেখানে সহযোগিতা এবং প্রয়োজন হলে বিরোধিতা করবে।

সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে জনমতের প্রতিফলন ঘটাতে সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পারস্পরিক আস্থাই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।”