জাতীয়

‘ইতিহাস ভুলে গেলে মাশুল দিতে হয়,’ সংসদে আখতার

সংবিধান সংস্কার নিয়ে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংসদে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে এবং রাজনৈতিক ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “ইতিহাস ভুলে গেলে তার মাশুল দিতে হয়। আর আগের মতো করে সংবিধান পরিবর্তনের চেষ্টা হলে দেশকে আবার সেই মূল্য দিতে হতে পারে।”

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা ডাকা নিয়ে মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন রংপুর থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য।

বিএনপির বর্তমান অবস্থান এবং অতীত রাজনৈতিক পদক্ষেপের মধ্যে তুলনা টেনে আখতার বলেন, “অতীতের বিতর্কিত নিয়োগ ও সংবিধান সংশোধনের চেষ্টা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে দীর্ঘায়িত করেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।”

সংস্কার ইস্যুতে বাড়ছে রাজনৈতিক দূরত্ব সংবিধান সংস্কার পরিষদ কার্যকর করা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে। বিএনপি বলছে, সংবিধান সংশোধনের আগে এ ধরনের পরিষদ কার্যকর হতে পারে না। অন্যদিকে এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামী এই অবস্থানের বিরোধিতা করে দ্রুত পরিষদের কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানিয়ে আসছে।

এই প্রেক্ষাপটে আখতার সংসদে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সংস্কার নিয়ে যে আলোচনা হয়েছিল, সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু এখন সেই অবস্থান থেকে সরে আসা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

গণভোটের বিষয়টিও সামনে এনে তিনি বলেন, “যে গণভোটে জনগণ হ্যাঁ বলেছিল, সেই রায়ের প্রতি সম্মান দেখানো এখন রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়। অথচ সেই গণভোটের ফল বাস্তবায়ন নিয়ে অনীহা দেখা যাচ্ছে, যা জনগণের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।”

অতীতের উদাহরণ টেনে সতর্ক বার্তা বিএনপির অতীত শাসনামলের কিছু সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির এমপি আখতার বলেন, “সংবিধান সংশোধন বা গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগগুলো যদি দলীয় স্বার্থে পরিচালিত হয়, তাহলে তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর পড়ে। অতীতে এর নেতিবাচক উদাহরণ রয়েছে।”

সংবিধান সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সব পক্ষের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে হলে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে, অন্যথায় একই ভুলের পুনরাবৃত্তি দেশের জন্য নতুন সংকট ডেকে আনতে পারে।”