গাজীপুরের শ্রীপুরে কৃষিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন এক দম্পতি। মালচিং পদ্ধতিতে স্ট্রবেরি চাষ করে ইতোমধ্যেই সফলতার উজ্জ্বল উদাহরণ স্থাপন করেছেন আমির হুসাইন ও খাদিজা আক্তার পপি। গত পাঁচ বছর ধরে উন্নত জাতের স্ট্রবেরি চাষ করে তারা শুধু নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন করেননি, আশপাশের কৃষকদের মাঝেও এই ফল চাষে আগ্রহ তৈরি করেছেন।
শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের পেলাইদ গ্রামের আমির হুসাইন পেশায় আইনজীবী। আদালতে সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে সময় দেন কৃষিতে। স্ত্রী খাদিজা আক্তার পপি সবসময় পাশে থেকে সহায়তা করছেন স্বামীর কৃষি উদ্যোগে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এই দম্পতির ৮ বিঘা জমির স্ট্রবেরি বাগান এখন সম্ভাবনার প্রতীক। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ কেজি স্ট্রবেরি সংগ্রহ করা হয়। যার প্রতি কেজির বাজারমূল্য ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। ঢাকার বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা এই ফল থেকে প্রতিদিনই তাদের আয় হচ্ছে উল্লেখযোগ্য অঙের টাকা।
এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাদের নিজস্ব চারা উৎপাদনের উদ্যোগ। রানার পদ্ধতিতে চারা তৈরি করে নিজের জমিতে রোপণ করার পাশাপাশি অতিরিক্ত চারা বিক্রি করেও বাড়তি আয় করছেন আমির হুসাইন ও খাদিজা আক্তার পপি। এ বছর প্রায় ৩০ হাজার গাছ রোপণ করেছেন তারা।
আমির হুসাইন বলেন, “উচ্চমূল্যের ফল হিসেবে স্ট্রবেরির সম্ভাবনা অনেক। শুরুতে ছোট পরিসরে চাষ করলেও ভালো ফল পেয়ে ধীরে ধীরে জমির পরিমাণ বাড়িয়েছি। কৃষি সম্পর্কে আগে থেকেই কিছু ধারণা ছিল, তাই নিজ উদ্যোগেই সবকিছু পরিচালনা করছি।”
খাদিজা আক্তার পপি বলেন, “স্ট্রবেরি চাষ সত্যিই লাভজনক। আমাদের মোট বিনিয়োগ প্রায় ২৫ লাখ টাকা। আশা করছি মৌসুম শেষে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বিক্রি হবে। ইতোমধ্যে এক মাসেই ২০ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছি।”
এই বাগানে প্রতিদিন প্রায় ১০ জন শ্রমিক কাজ করেন। তাদের একজন আলী হোসেন বলেন, “সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা বাগানের আগাছা পরিষ্কার, নিড়ানি দেওয়া থেকে শুরু করে ফল সংগ্রহের কাজ করি। এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় কাজেও আনন্দ পাচ্ছি।”
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বলেন, “স্ট্রবেরি একটি পুষ্টিকর ও উচ্চমূল্যের ফল। এর চাষ বাড়লে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, তেমনি দেশের পুষ্টির চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখবে। কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে এবং এই দম্পতির মতো উদ্যোগী কৃষকদের সাফল্য অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।”