অর্থনীতি

ভ্যানগার্ড অ্যাসেটের ১০ কোটি অর্থদণ্ড বহাল, আপিল অগ্রহণযোগ্য

মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে আরোপিত ১০ কোটি টাকার অর্থদণ্ড বহাল রেখেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির করা আপিল আবেদন অগ্রহণযোগ্য বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের কর্মকাণ্ডকে ঘিরে নানান অনিয়ম, আইন লঙ্ঘন, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুন্ন করার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কোম্পানিটির পরিচালিত মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ বিধিবহির্ভূতভাবে বিনিয়োগ এবং আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার মতো গুরুত্বর অভিযোগ রয়েছে। তাই কোম্পানিটির মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পরিচালনায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুন্ন হয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২২ জুলাই এসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৯৬৪তম কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ২০১৭ সালে এএফসি হেলথ লিমিটেডে ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড থেকে পরিচালিত ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ানে অবৈধভাবে চার কোটি টাকাসহ মোট ৯ কোটি টাকার বিনিয়োগ ৩০ দিনের মধ্যে ফেরত না আনলে ১০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হবে। প্রতিষ্ঠানটি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচ্যুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০০১ লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে বিনিয়োগ করেছে। ফলে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচ্যুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০০১ এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কোম্পানিটিকে ১০ কোটি টাকার জরিমানা প্রদানের আদেশ দেয় বিএসইসি। তবে নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলেও কোম্পানিটি তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত আনেনি। ফলে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার অর্থদণ্ডের আদেশ এরইমধ্যে কার্যকর হয়েছে।

এদিকে, কোম্পানিটি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ এর ধারা অনুসারে আরোপিত অর্থদণ্ডের ১৫ শতাংশ কমিশনের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়েই আপিল দায়ের করেছে ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। ফলে কোম্পানিটির আপিল আমলে নেওয়া হচ্ছে না বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

বিএসইসির সিদ্ধান্ত

ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচ্যুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০০১ এর বিধি ৩৩(১), ৩৩(৮), ৫৬, ৫৮ ও ৫৯ লঙ্ঘন করেছে। কোম্পানিটির পরিচালিত ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ানে ৩০ দিনের মধ্যে ৯ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা পরিপালনে ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যর্থতার জন্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ এর ধারা ১৮ এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচ্যুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০০১ এর বিধি ৮২ এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ১০ কোটি টাকার অর্থদণ্ড প্রদানের আদেশ কার্যকর হয়েছে।

এদিকে, ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। তবে আইন অনুযায়ী আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে আরোপিত অর্থদণ্ডের কমপক্ষে ১৫ শতাংশ কমিশনের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি সেই অর্থ জমা না দিয়ে আপিল করায় ওই আবেদনটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কঠোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগকারীদের অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়ম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে বাজারে আস্থা বাড়বে। এই ঘটনা অন্য সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। নিয়ম মেনে ফান্ড পরিচালনা না করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে—এ বার্তাই দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় বিএসইসির এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।