দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিশ্বের বৃহত্তম জাতীয় আদমশুমারি বা জনসংখ্যা গণনার কাজ করেছে ভারত। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে কয়েক বছর পিছিয়ে যাওয়ার পর বুধবার (১ এপ্রিল) থেকে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে।
আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। খবর আল-জাজিরার।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতজুড়ে ৩০ লাখেরও বেশি সরকারি কর্মকর্তা এই শুমারিতে অংশ নিচ্ছেন। পুরো প্রক্রিয়াটি প্রধানত দুটি ধাপে সম্পন্ন হবে।
প্রথম ধাপ: বর্তমানে এই ধাপে কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘরবাড়ির ধরন ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করছেন। নাগরিকরা স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমেও সরাসরি তথ্য দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
দ্বিতীয় ধাপ: সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হবে গণনার দ্বিতীয় ধাপ। এই পর্যায়ে মানুষের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থা এবং ধর্ম ও বর্ণসহ (জাত) আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
বর্ণ বা জাত নিয়ে বিতর্ক
এবারের শুমারিতে সবচেয়ে আলোচিত এবং বিতর্কিত বিষয় হলো ‘বর্ণভিত্তিক’ তথ্য সংগ্রহ। ১৯৩১ সালের পর ভারতে আর কোনো বিস্তারিত বর্ণ গণনা হয়নি। স্বাধীন ভারতের শুমারিগুলোতে শুধুমাত্র তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের গণনা করা হতো।
ভারতে পেশা এবং অর্থনৈতিক অবস্থার ভিত্তিতে শত শত বর্ণ গোষ্ঠী রয়েছে, বিশেষ করে হিন্দুদের মধ্যে। কিন্তু এই গোষ্ঠীগুলোতে কতজন লোক রয়েছে সে সম্পর্কে দেশটির কাছে সীমিত তথ্য রয়েছে।
সমর্থকদের মতে, অনগ্রসর গোষ্ঠীদের প্রকৃত অবস্থা জানতে এই তথ্য জরুরি। তবে ভারতের পূর্ববর্তী সরকারগুলো পূর্ণাঙ্গ বর্ণ গণনার বিরোধিতা করে আসছিল এই যুক্তিতে যে, এটি সামাজিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে এবং অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
ভারতে ‘বর্ণ প্রথা’ একটি প্রাচীন সামাজিক স্তরবিন্যাস, যা সামাজিক মর্যাদা নির্ধারণ এবং সম্পদ, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সুযোগের প্রাপ্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখে।
আদমশুমারির গুরুত্ব ও প্রভাব
আদমশুমারি থেকে প্রাপ্ত তথ্য সরকারি জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি এবং বিভিন্ন জননীতির বন্টনের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এছাড়া এটি ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রকেও নতুন করে সাজাতে পারে:
রাজনৈতিক আসন বিন্যাস: জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের ওপর ভিত্তি করে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলোর আসন সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে।
নারী সংরক্ষণ: ২০২৩ সালের নতুন আইন অনুযায়ী আইনসভার এক-তৃতীয়াংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। আসন সংখ্যা বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই নারী জনপ্রতিনিধির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
২০১১ সালে পরিচালিত সর্বশেষ আদমশুমারিতে ভারতের জনসংখ্যা ছিল ১২১ কোটি। বর্তমানে এটি ১৪০ কোটিরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ভারতকে বিশ্বের জনবহুল রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনপিএফ) মতে, ২০২৩ সালে ভারত চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হয়েছে।