খেলাধুলা

ক্রিকেটারদের মুখে ‘স্পোর্টস মাস্ক’, কতটা উপকার পাচ্ছেন তারা?

নাজমুল হোসেন শান্তুর মুখেই সর্বপ্রথম স্পোর্টস মাস্ক দেখা যায়। তবে এই মাস্ক বাইরে থেকে আনা হয়েছিল স্পিনার তানভীর ইসলামের জন‌্য। বাংলাদেশের টেস্ট দলের নাজমুল অধিনায়ক মিরপুর শের-ই-বাংলায় রানিং করছিলেন তখন মুখে স্পোর্টস মাস্ক। 

আজ বুধবার নুরুল হাসান সোহানের মুখেও একই মাস্ক। ২-৩ জনের আগ্রহ দেখাচ্ছে এই মাস্ক ব‌্যবহারে। খোঁজ নিয়ে জানা গেল অনুশীলনে এই স্পোর্টস মাস্ক ব‌্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ উদ্দেশ‌্য থেকে। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এটির ব্যবহার নিয়মিতই দেখা যায়। সামনে বাংলাদেশেও এটি দেখা যেতে পারে বেশি সংখ্যকভাবে। 

তবে প্রশ্ন উঠছে, কতটা উপকার পাচ্ছেন ক্রিকেটাররা? জাতীয় দলের ফিটনেস ক‌্যাম্প পরিচালনা করা বিসিবির স্ট্রেংথ অ‌্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ ইফতেখার রহমান দিয়েছেন সেই উত্তর। বুধবার মিরপুরে ইফতেখার রহমান বলেছেন, ‘‘যে ক্রিকেটার ইনজুরড, রানিং করতে পারছে না, তাকে তো আমার রানিং করাতে হবে। এটা কিভাবে করানো যায়? আপনি যদি আধ ঘণ্টা একজন ক্রিকেটারকে রানিং করাতে না পারেন, কোনো ইনজুরি, হাঁটুতে ব্যথা বা হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যা, ওই ক্রিকেটারদের যদি স্পোর্টস মাস্ক পরে আধ ঘণ্টা হাঁটাতে পারেন, তাহলে কিন্তু (রানিংয়ের মতো) একই কাজ হয়। মানে, রানিং না করিয়েও স্পোর্টস মাস্ক পরিয়ে রানিংয়ের কন্ডিশন করে ফেললাম।”

“কিভাবে এটা কাজ করে? মূলত এটা হাই-অল্টিটিউড মাস্ক। অনেক ওপরে গেলে যেমন শ্বাস নেওয়া যায় না, এই মাস্কের কাজও হলো (সহজে) শ্বাস নিতে দেবে না। কষ্ট করে শ্বাস নিতে হবে। শ্বাস (ঠিকমতো) না নিতে পারলে হার্টের ক্যাপাসিটি বাড়বে, লোড নেওয়ার ক্ষমতা বাড়বে। এই ব্যাপারটিই আমরা তৈরি করার চেষ্টা করেছি।” – যোগ করেন তিনি।

এই মাস্কের কার্যকারিতা আরও গভীরভাবে ব্যাখ্যা করলেন এই ট্রেইনার, ‘‘এখানে অনেক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে। হার্টের লোড বাড়লে আপনার যদি ব্লাড সার্কুলেশন বাড়ে, হার্ট যদি বেশি পাম্প করে, ৮৫ শতাংশের ওপরে যখন হার্ট পাম্প করতে থাকবে, লোড যদি বাড়ে… ট্রেনিংয়ের ব্যাপারটি হলো, হার্ট রেট যদি ৮৫ শতাংশের ওপরে থাকে, তখন ফ্যাট কমতে শুরু করে, এর নিচে থাকলে ফ্যাট কমবে না… এই মাস্ক কখনও কখনও হার্টের ওপর চাপ তৈরি করে এমনভাবে যে, রক্তচাপ বাড়বে, হার্টরেট বাড়বে এবং ৮৫ শতাংশের ওপরে চলে যাবে।”

“এমনিতে ৮৫ শতাংশ হার্টরেট করতে গিয়ে হয়তো ৫টি রাউন্ড দিতে হবে। সেখানে মাস্ক পরিয়ে একটি রাউন্ড দিলেই ৮৫ শতাংশে উঠে যাবে হার্ট রেট। তার মানে, মাস্ক পরিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই কাজটি আদায় করতে পারছি। সেজন্যই মাস্কটি ব্যবহার করা হচ্ছে।”

চলমান এই ফিটনেস ক্যাম্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন ইফতেখার, ‘‘বোলাদের নিয়ে আমাদের ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ওদের অগ্রাধিকার পরিকল্পনা করা হয়েছে, কে কখন খেলবে, কে কখন বের হবে, কখন রিহ্যাবে যাবে, এই ধরনের শক্ত পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আপনারা জেনে থাকবেন যে, বোলারদের আমরা মেথড দেই একটা যে, টু ফোর সেভেন একটা মেথড থাকে যে, সপ্তাহে সাত দিন দুই দিনের বেশি বোলিং করা যাবে না। এই মেথডে আমরা যাওয়ার চেষ্টা করছি।”

“একটা বোলার হয়তো দুটি সিরিজ খেলবে। পরপর তিনটি সিরিজ যদি খেলে, তাহলে আমরা হয়তো কোচের সঙ্গে আলোচনা করব যে, পরের সিরিজে তাকে না খেলিয়ে ডি-লোডিং পিরিয়ডে নেওয়া যায় কি না। রিহ্যাব করিয়ে আবার প্রস্তুত করা যায় কি না। একজন ফাস্ট বোলারকে টানা খেলাতে খেলাকে একসময় চোটে পড়বে। চোটে পড়ে ৫ মাস বাইরে থাকার চেয়ে এটা ভালো যে, সে চোটের পড়ার আগেই আমরা রিহ্যাবে এনে তৈরি করে আবার দলের জন্য দেব। তাহলে কোনো বোলার ইনজুরিতে থাকবে না।”

আগামী ৪ এপ্রিল থেকে ক্রিকেটারদের স্কিল সেশন শুরু হবে। বাংলাদেশ দলের পরবর্তী অ‌্যাসাইনমেন্ট নিউ জিল‌্যান্ড সিরিজ। তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলতে আগামী ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশে আসছেন কিউইরা।