আন্তর্জাতিক

ইরানে ১ লাখ ১৫ হাজার বেসামরিক স্থাপনা বিধ্বস্ত: রেড ক্রিসেন্ট

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান হামলায় সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। 

ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এসব হামলায় ইরানজুড়ে এ পর্যন্ত ১ লাখ ১৫ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। খবর ওয়ানা নিউজের। 

রেড ক্রিসেন্টের দাবি, ইরানে নির্বিচার বোমাবর্ষণ করছে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। কেবল সামরিক স্থাপনাই নয়, বরং বেসামরিক স্থাপনাগুলোকেও ব্যাপকভাবে লক্ষ্যবস্তু করছে। 

সংস্থাটি জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ১৯৩টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে ৯১ হাজার ৪৯৮টি বাড়িঘর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, ২২ হাজার ৫৮০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৭৬৩টি স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ১৮টি রেড ক্রিসেন্ট সেবাকেন্দ্র সরাসরি হামলার শিকার হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

রেড ক্রিসেন্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ক্ষয়ক্ষতির একটি বড় অংশই হয়েছে তেহরান প্রদেশে। রাজধানীতে মোট ৪৪ হাজার ৩৯১টি বেসামরিক স্থাপনা আক্রান্ত হয়েছে। যা রাজধানীর ওপর হামলার ভয়াবহতা নির্দেশ করে। আবাসিক এলাকার পাশাপাশি চিকিৎসা কেন্দ্র ও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে রেড ক্রিসেন্ট দাবি করেছে।

আন্তর্জাতিক সকল রীতিনীতি লঙ্ঘন করে ৩১৬টি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। সংস্থাটির অভিযোগ, শত্রুপক্ষ কেবল সামরিক অবস্থানে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক অবকাঠামোগুলোকে টার্গেট করছে।

সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, বিপর্যয়ের মুখে রেড ক্রিসেন্টের উদ্ধারকর্মীরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫২৬ জনকে বের করে আনা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৮১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হয়েছে।

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় রেড ক্রিসেন্টের ৩ জন কর্মী নিহত হয়েছেন ও আরও ১৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়া হামলায় বিপুল সংখ্যক সাধারণ নারী ও শিশু হতাহত হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।