ক্যাম্পাস

ইবি শিক্ষক হত্যার বিচার দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচারের দাবিতে কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ ও পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন বিভাগের শিক্ষার্থী ও নিহতের পরিবার। এ সময় দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর গেইটে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে প্রায় এক ঘণ্টা কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। এরপর তারা কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করেন।

কর্মসূচিতে নিহত রুনার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান, তার সন্তানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, “মামলার আসামি বিশ্বজিৎ ও শ্যাম সুন্দর হাইকোর্ট এলাকায় ঘোরাফেরা করলেও এখন পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের যদি ন্যূনতম নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? নিহত শিক্ষিকার চারটি সন্তান রয়েছে, তাদের কথা বিবেচনা করেও প্রশাসনের এতদিনে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।”

নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বলেন, “আমার স্ত্রী জীবিত অবস্থায় যে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন, মৃত্যুর পরও সেই ষড়যন্ত্র চলমান রয়েছে। প্রশাসন ফজলুকে দিয়ে এককভাবে একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে পারে। বিশ্বজিৎ, শ্যাম সরকারসহ যাদের বিরুদ্ধে অর্থ তছরূপের লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, সে বিষয়ে এখনো বিশ্ববিদ্যালয় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।”

পরে পরিবার ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শওকত মো. হাসান ইমামের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি সোহান জানান, ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।

তিনি বলেন, “অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, মূল আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অন্য আসামিদের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হবে এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।” ভবিষ্যতেও এমন অবস্থা থাকলে ভিসি কার্যালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

প্রসঙ্গত, গত ৪ মার্চ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় পরদিন ইবি থানায় প্রধান আসামি হিসেবে কর্মচারী ফজলুর রহমানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে নিহতের পরিবার। পরে ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন—বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান।