সারা বাংলা

প্রশাসনের মামলা, বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ 

সড়ক দুর্ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদারের নিহতের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় মামলা করেন। এর আগে বেলা ১১টায় ক্লাস বর্জন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন।

ঘটনার পর দিন মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘাতক চালককে গ্রেপ্তার, সংশ্লিষ্ট গাড়ি জব্দ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে পৃথকভাবে চিঠি দেওয়া হয়।

একই দিন বেলা ১১টায় ক্লাস বর্জন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় উপস্থিত হয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মৌমিতার মৃত্যুর তিন দিন পার হলেও ঘাতক চালক ও গাড়ি শনাক্ত না হওয়া হতাশাজনক ও উদ্বেগজনক।

আজ বৃস্পতিবার (২ এপ্রিল) উপাচার্য জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে এবং তিনি বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখছেন। তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকলেও সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ অস্পষ্ট হওয়ায় এখনো চালককে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের জন্য সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। নিহত ছাত্রীর পরিবার মামলা না করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ (বৃহস্পতিবার) মামলা করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে স্পিড ব্রেকার মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।

গত সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় খুলনা জেলা পরিষদ ভবনের সামনে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় রিকশা থেকে পড়ে মারা যায় মৌমিতা হালদার। তিনি আইন বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে স্নাতক সম্পন্ন করে বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত ছিলেন।