ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কার্জন হলের পাশের শান্ত পথ ধরে হাঁটলে হঠাৎই চোখে পড়ে মোগল স্থাপত্যের এক নিদর্শন মুসা খাঁ মসজিদ। প্রায় চারশো বছরের পুরোনো এই স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে ছিল। দেয়ালে শ্যাওলা, ভাঙাচোরা অবস্থা, সব মিলিয়ে মনে হতো ইতিহাস যেন নীরবে ক্ষয়ে যাচ্ছে। তবে, সেই চিত্র এখন বদলাতে যাচ্ছে। প্রায় ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা (২.৩৫ লাখ মার্কিন ডলার) অনুদানে মসজিদটির সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের পেছনে বড় কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি নন, বরং আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) একজন তরুণ প্রতিনিধি মোসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদ।
ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদের কাছে এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। নির্বাচনের সময় তিনি ক্যাম্পাসের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। অন্যান্য স্থাপনার কাজ এগোলেও অর্থের অভাবে মুসা খাঁ মসজিদের সংস্কার থেমে ছিল।
পরবর্তীতে তিনি বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করেন। ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর ডাকসুর ভিপিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বিশেষ অনুরোধে মার্কিন দূতাবাস আবেদনটি গ্রহণ করে। প্রায় তিন মাসের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্নতাত্ত্বিক তহবিল থেকে এই অনুদান অনুমোদিত হয়।
মোসাদ্দেক আলী বলেন, “মুসা খাঁর কবর দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে আছে, এটি সংরক্ষণ করা জাতীয় দায়িত্ব।”
প্রস্তাব অনুযায়ী, শুধু মসজিদ নয়, ১৬০০ খ্রিস্টাব্দের মুসা খাঁর কবরও সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি পুরোনো অজুখানাটি নতুনভাবে নির্মাণ করা হবে, যাতে মোগল স্থাপত্যের মূল বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ থাকে।
তবে, এই অর্জনের মাঝেও তার কিছু আক্ষেপ রয়েছে। তার অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়ায় ডাকসু প্রতিনিধিদের যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সব প্রস্তুতি শেষ, এখন অপেক্ষা কাজ শুরুর। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ইতিহাসপ্রেমীদের আশা, সংস্কারের পর মুসা খাঁ মসজিদ আবার তার পুরনো সৌন্দর্য ফিরে পাবে। এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিল—সদিচ্ছা আর চেষ্টা থাকলে তারুণ্যই পারে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে নতুন করে ফিরিয়ে আনতে।