সারা বাংলা

মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে টাকা আদায়, দুই এসআই প্রত্যাহার 

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে আসা এক যুবককে মাদকের মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের দুই উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও দুই কনস্টবলের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার মুখে অভিযুক্ত দুই এসআইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করছে জেলা পুলিশ।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও ধারণ করা ভিডিও থেকে জানা গেছে, ঢাকা থেকে নাবিল হোসাইন নামের এক যুবক গত ২৮ মার্চ (শনিবার) ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর এলাকার বাজার পাড়ায় তার বন্ধু রিফাত হোসেনের বাড়িতে বেরাতে আসেন। রিফাত ও নাবিলসহ অন্য বন্ধুরা পরদিন ২৯ মার্চ (রবিবার) আরেক বন্ধু তানভিরের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেদিন সন্ধ্যায় সাদা পোশাকে চারজন ব্যক্তি তানভিরের বাড়িতে হানা দেন। তারা পুলিশ পরিচয়ে মাদকদ্রব্য খোঁজার নামে ঘর তল্লাশি করে ত্রাসের সৃষ্টি করেন। নাবিলের বন্ধু রিফাত একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, এ দাবি করে তার হাতে হাতকড়া লাগিয়ে দেন পুলিশ সদস্যরা। তারা একপর্যায়ে ১ লাখ টাকা দাবি করেন রিফাতের কাছে। মোটরসাইকেলে তুলে শহরের দিকে নিয়ে আসলে ভয়ে নাবিল ঢাকায় তার বাড়িতে ফোন দেন এবং পুলিশের সঙ্গে ২০ হাজার টাকায় রফা করেন। শৈলকুপা শহরের কবিরপুরে ইসলামী ব্যাংকের বুথ থেকে ২০ হাজার টাকা তুলে এসআই আজগর ফরাজির হাতে দেওয়া হয়। 

এ সময় এসআই আজগর বলেন, ‘আল্লাহ ভরসা, স্যার যেহেতু বলছে, কোনো সমস্যা নাই’। এর পর রিফাত ও নাবিলকে শৈলকুপা শহরের চৌরাস্তা মোড়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নাবিল পুলিশের মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার পথে কৌশলে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। ছাড়া পাওয়ার পর একটি ভিডিও বক্তব্যে পুলিশের নীতি-নৈতিকতা ও দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ তুলে বিচার প্রত্যাশা করেন।

শৈলকুপা থানার এসআই হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে এসআই আজগর ফরাজিসহ চার পুলিশ সদস্য এ অভিযান চালান। 

ভুক্তভোগী নাবিল হোসাইন বলেছেন, “আমি ঢাকার শাহীন কলেজের শিক্ষার্থী। বন্ধুর বাড়িতে বেরাতে এসেছিলাম। হঠাৎ পুলিশ এসে আমাদের ধরে নিয়ে টাকার বিনিময়ে ছাড়ে। আমার কাছে টাকা না থাকায় আজগর নামের ওই পুলিশ সদস্য তার মোটরসাইকেলে নিয়ে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে নিয়ে মুক্তি দেয়।”

এদিকে, চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরপরই ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ গুরুত্ব সহকারে ঘটনার অনুসন্ধান ও তদন্ত শুরু করে। ৩০ মার্চ সহকারী পুলিশ সুপার (শৈলকুপা সার্কেল) অভিযোগের অনুসন্ধানের কথা উল্লেখ করে রিফাতের বাবা আজিজুল হক, তানভীর, সীমান্ত ও তাদের অভিভাবকসহ পাঁচজনকে জরুরি নোটিশ দেন। ১ এপ্রিল তাদেরকে সার্কেল অফিসে হাজির হওয়ার অনুরোধ করা হয়। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) শৈলকুপা থানার এসআই হুমায়ুন ও এসআই আজগর ফরাজিকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।

তবে, অভিযুক্ত শৈলকুপা থানার এসআই হুমায়ুন কবির দুই যুবককে বাড়ি থেকে ধরে শৈলকুপা শহরে আনা ও ছেড়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেছেন, “আমি ছুটিতে আছি। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলুন।” 

ঝিনাইদহের সহকারী পুলিশ সুপার (শৈলকুপা সার্কেল) আক্তারুজ্জামান বলেছেন, “প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় শৈলকুপা থানার এসআই হুমায়ুন কবির ও এসআই আজগর ফরাজিকে শৈলকুপা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।”