আন্তর্জাতিক

কুয়েতে বিদ্যুৎ ও পানি লবণমুক্তকরণ কেন্দ্রে হামলা, দায়ী কে

কুয়েতে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পানি লবণমুক্ত করার (ডেসালিনেশন) প্ল্যান্টে বিমান হামলা হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার সময় সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ পড়ে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে বলে দুই দেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের ৩৫তম দিনে উপসাগরীয় দেশগুলো এখনো পাল্টা হামলার মুখে রয়েছে।

শুক্রবার (৩ মার্চ) দুপুরের আগে কুয়েতের কর্তৃপক্ষ এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে। তবে কোন প্ল্যান্টে আঘাত হানা হয়েছে বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, তা জানা যায়নি।

এই হামলার পর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) দায় অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, এই হামলা ইসরায়েল চালিয়েছে।

 এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, “কুয়েতের পানি লবণমুক্তকরণ কেন্দ্রগুলোর ওপর ইসরায়েলের এই ‘অস্বাভাবিক ও অবৈধ’ হামলা জায়নবাদী দখলদারদের নিকৃষ্টতার প্রমাণ।”

তারা আরো বলেছে, “আমরা এই অমানবিক কাজের নিন্দা জানাই এবং ঘোষণা করছি যে, এই অঞ্চলে থাকা আমেরিকার ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনা এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জায়নবাদী শাসনের সামরিক ও নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলো আমাদের শক্তিশালী লক্ষ্যবস্তু।”

এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ভোরে কুয়েতের আল-আহমাদি তেল শোধনাগারেও ড্রোন হামলা হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা কুনা জানায়, এতে কয়েকটি অপারেশন ইউনিটে আগুন লাগে, তবে কোনো কর্মচারী আহত হননি। জরুরি ও অগ্নিনির্বাপণ দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করছেন।

কুয়েত সিটি থেকে আলজাজিরার সাংবাদিক মালিক ট্রাইনা জানান, এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ওই শোধনাগারটি হামলার শিকার হয়েছে এবং সারা দেশে মানুষ ‘হাই অ্যালার্টে’ রয়েছে।

তিনি বলেন, “এটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ শোধনাগার এবং স্থানীয় ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

ট্রাইনা বলেন, “কুয়েত ইরানের সবচেয়ে কাছের দেশ; মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরত্বে ইরানের উপকূল। তাই ইরান থেকে হামলার জন্য এটি সবচেয়ে সহজ লক্ষ্যগুলোর একটি।”

এর আগে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কুনা সতর্ক করেছিল যে, কুয়েতে ‘শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা’ চলছে। মাঝ আকাশে বিস্ফোরণের সময় সাইরেন বেজে ওঠে এবং ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার শব্দ শোনা যায়।

কুয়েত ও উপসাগরীয় অনেক দেশই পানির জন্য ডেসালিনেশন প্ল্যান্টের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। ৩০ মার্চ এমন এক হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হন। তবে ইরান তখনো দায় অস্বীকার করে এবং ইসরায়েলকে দায়ী করে।

শুক্রবার (৩ মার্চ) কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার কুয়েতে ব্রিটিশ স্থলভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন নিয়ে আলোচনা করেন বলে কুনা জানিয়েছে।

১২ জন আহত, ডাটা সেন্টার লক্ষ্যবস্তু এদিকে শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটি নতুন করে সন্দেহভাজন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঢেউ মোকাবিলা করছে।

আবুধাবির আজবান এলাকায় ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সাতজন নেপালের নাগরিক এবং পাঁচজন ভারতীয়।

এই ধ্বংসাবশেষের কারণে হাবশান গ্যাস স্থাপনায় আগুন লাগে, যা আমিরাতের একটি বড় গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, বৃহস্পতিবারই তারা ১৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৬টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। যদিও এটি ইরানের ছোড়া শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও হাজারো ড্রোনের একটি অংশমাত্র।

দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, এখন পর্যন্ত অন্তত দুজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত এবং বিভিন্ন দেশের ১৯১ জন আহত হয়েছেন।

সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমায় একটি ড্রোন ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে বাহরাইন তিনবার ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা জারি করেছে।

ডাটা সেন্টার হামলার অভিযোগ ইরানের নেতারা আগেই উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হামলার হুমকি দিয়েছিল। এবার তা বাস্তবায়নের ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, তেহরান দুবাইয়ে একটি ওরাকল ডাটা সেন্টার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যা ১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল খাররাজি আহত হওয়া এবং তার স্ত্রীর মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে করা হয়েছে।

তবে দুবাই মিডিয়া অফিস এই দাবিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

এর আগে সোমবার আমজন ওয়েব সার্ভিসেস নিশ্চিত করে যে, তাদের আমিরাতের দুটি ডাটা সেন্টার সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে এবং বাহরাইনে আরেকটি ডাটা সেন্টার আংশিক ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।