খেলাধুলা

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরে দাঁড়ালেন গাত্তুসো, নতুন শুরুর পথে ইতালি

বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়ার হতাশা কাটিয়ে নতুন করে পথচলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি। সেই পথের শুরুতেই জাতীয় দলের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন জেন্নারো গাত্তুসো। পারস্পরিক সমঝোতায় দায়িত্ব ছাড়লেও বিদায়ের মুহূর্তে ছিল গভীর আক্ষেপ।

প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যায় ইতালির। জেনিৎসায় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচের পরদিনই পদত্যাগ করেন ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি গ্যাব্রিয়েলে গ্রাভিনা এবং দলের প্রতিনিধি প্রধান জিয়ানলুইজি বুফন। এরপর শুক্রবার কোচ গাত্তুসোও দায়িত্ব ছেড়ে দেন।

৪৮ বছর বয়সী এই কোচ নিজের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য পূরণ করতে না পারার কষ্ট নিয়েই জাতীয় দলের কোচ হিসেবে আমার অধ্যায় শেষ করছি। ইতালির জার্সি ফুটবলে সবচেয়ে বিশেষ। তাই ভবিষ্যতের জন্য নতুন কোচিং স্টাফের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত।”

তিনি আরও বলেন, “ফেডারেশনের সবাই আমাকে যে সমর্থন দিয়েছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞ। এই দলকে নেতৃত্ব দেওয়া ছিল সম্মানের। খেলোয়াড়রা সবসময় লড়াই করেছে, নিবেদন দেখিয়েছে। আর সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা- কঠিন সময়েও তারা পাশে ছিল।”

ইউরো ২০২০ জয়ের পর রবার্তো মানচিনির উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেন লুচিয়ানো স্পালেত্তি, আর তার পর গাত্তুসো আসেন বাছাইপর্বের মাঝপথে। তবে গ্রুপে নরওয়ের পেছনে ৬ পয়েন্টে দ্বিতীয় হয়ে সরাসরি সুযোগ হারায় ইতালি। এরপর প্লে-অফের প্রথম ধাপ পেরোলেও শেষ পর্যন্ত থেমে যেতে হয়।

এই নিয়ে টানা ৩টি বিশ্বকাপে খেলা হলো না চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির ২০১৮, ২০২২ এবং এবার ২০২৬। ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক চ্যাম্পিয়ন এমন হতাশার মুখ দেখল।

৭২ বছর বয়সী গ্রাভিনা ২০১৮ সাল থেকে ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তার উত্তরসূরি নির্ধারণে ২২ জুন রোমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

২০০৬ সালে বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক বুফনও দায়িত্ব ছাড়াকে “দায়িত্ববোধের অংশ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, “মূল লক্ষ্য ছিল ইতালিকে আবার বিশ্বকাপে ফিরিয়ে আনা। আমরা সেটা করতে পারিনি।”

সব মিলিয়ে, ইতালিয়ান ফুটবলে এখন আত্মসমালোচনার সময়। একের পর এক ব্যর্থতার পর বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে আজ্জুরিরা। যেখানে নতুন নেতৃত্বেই খুঁজে নিতে হবে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ।