সারা বাংলা

গভীর রাতে সরকারি পুকুরের মাছ ধরে নিয়ে গেলেন দুই সহকারী কমিশনার

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার খোয়াসাগর দিঘি থেকে রাতের অন্ধকারে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরে নিয়ে গেছেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দুজন সহকারী কমিশনার। জেলেদের মাধ্যমে দিঘিতে জাল ফেলে বড় বড় মাছ তুলে সরকারি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়। 

মাছ ধরা এবং নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন ও হাবিবুর রহমানের নির্দেশে জেলেরা দিঘিতে জাল ফেলে মাছ তুলছেন। ওই মাছ দুটি সরকারি গাড়িতে (লক্ষ্মীপুর-ঠ ১১-০০১৯ ও ঢাকা মেট্রো- ১৩-৩৭৭৮) তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।  

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত সরকারি পুকুর থেকে মাছ ধরা হয়। এ সময় সহকারী কমিশনার শেখ সুমনের কাছ থেকে ভিডিও বক্তব্য চাইলে তিনি কৌশলে সটকে পড়েন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ২৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী খোয়াসাগর দিঘি প্রায় ২৫ একরজুড়ে বিস্তৃত। একসময় এ পুকুর লক্ষ্মীপুর পৌরসভা থেকে ইজারা দেওয়া হতো। ১০ বছর আগে তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি) জিল্লুর রহমান চৌধুরী সেটি জেলা প্রশাসনের অধীনে নিয়ে আসেন। এর পর থেকে পুকুরটি ইজারা দেওয়া হয় কি না, কেউ জানে না। দীর্ঘসময় দিনের আলোতেও কাউকে মাছ ধরতে দেখা যায়নি। সর্বশেষ ২০২৪ সালে আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর স্থানীয় জনতা উল্লাস করে দিঘির মাছ লুট করে। এর পর প্রায় দেড় বছরে কাউকে মাছ ধরতে দেখা যায়নি। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কাতল, রুই, চিতল, আইড় ও পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন প্রকার প্রায় দুই টন মাছ ধরে নিয়ে গেছেন প্রশাসনের লোকজন। একেকটি চিতল প্রায় ৭-৮ কেজি ওজনের হবে। তবে সেগুলো কোথায় নেওয়া হয়েছে, রাতের অন্ধকারেই কেন মাছ ধরতে হয়েছে, তা বলতে পারেননি কেউ। এছাড়া, স্থানীয় দুজন ব্যবসায়ীর কাছে ওই পুকুরের প্রায় ১১২ কেজি তেলাপিয়া মাছ বিক্রি করে দেওয়া হয়। 

দালাল বাজারের মাছ ব্যবসায়ী তুহিন বলেছেন, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের ডাকা হয়েছে। আমাকে ৪২ কেজি তেলাপিয়া মাছ দিয়েছে। আরেক ব্যবসায়ী সিরাজকে ৭০ কেজি মাছ দেওয়া হয়েছে। অন্য মাছ বিক্রি করেনি।” 

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন সাংবাদিকদের বলেছেন, “মাছ ধরে এতিমখানায় দিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাছ বিক্রিও করা হয়েছে। সারাদিন ব্যস্ত ছিলাম, অফিস করেছি, এজন্য রাত হয়েছে।” 

কত টাকার মাছ বিক্রি করা হয়েছে এবং কী পরিমাণ মাছ এতিমখানায় দেওয়া হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটা আমি জানি না।”