লাইফস্টাইল

শিশুকে ‘ইমোশনাল স্পাউস’ বানানো কতটা ক্ষতিকর জানেন?

অনেক স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকে না। ফলে পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যে আবেগগত সম্পর্ক থাকার কথা, তা যখন দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন অনেক সময় একজন অভিভাবক অজান্তেই সেই শূন্যতা পূরণের জন্য সন্তানের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তিনি নিজের কষ্ট, হতাশা, দাম্পত্যের সমস্যা কিংবা জীবনের না-পাওয়ার গল্প শিশুর সঙ্গে ভাগ করতে শুরু করেন।এভাবেই ধীরে ধীরে শিশুটি হয়ে ওঠে তার ‘শ্রোতা’, ‘সমর্থনদাতা’—কখনো কখনো ‘থেরাপিস্ট’। এই অবস্থাকেই বলা হয় ‘ইমোশনাল স্পাউস’—যেখানে সম্পর্কের স্বাভাবিক সীমারেখা ভেঙে যায়।

১. শৈশব হারিয়ে ফেলা একটি শিশুর মানসিক গঠন বড়দের জটিল সমস্যা বোঝার জন্য প্রস্তুত থাকে না। কিন্তু যখন সে মায়ের কান্না বা বাবার হতাশার ভার নিতে শুরু করে, তখন তার স্বাভাবিক চঞ্চলতা হারিয়ে যায়। সে অকালেই বড় হয়ে ওঠে—কিন্তু সেই বড় হওয়া সুস্থ নয়।

২. স্থায়ী উদ্বেগ ও অপরাধবোধ এই শিশুরা মনে করতে শুরু করে—“মা-বাবার সুখ-দুঃখ আমার ওপর নির্ভর করছে।” তারা সবসময় ভয়ে থাকে—নিজের কোনো ভুলে হয়তো মা আরও কষ্ট পাবেন। এই অপরাধবোধ ও চাপ তাদের ভেতরে দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ তৈরি করে।

৩. ভবিষ্যতের সম্পর্কের জটিলতা বড় হয়ে এরা অনেক সময় সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে না। তারা প্রায়ই এমন মানুষের প্রতি আকৃষ্ট হয়, যাদের ‘ঠিক’ করার প্রয়োজন আছে—কারণ ছোটবেলা থেকেই তারা ‘উদ্ধারকারী’ (savior) ভূমিকা নিতে শিখেছে।

৪. বাচ্চাকে ‘থেরাপিস্ট’ বানাবেন না আপনার কষ্টের কথা বলার জন্য সমবয়সী বন্ধু, আত্মীয় বা প্রয়োজন হলে পেশাদার কাউন্সেলরের সাহায্য নিন।শিশু আপনার মানসিক বোঝা বহন করার জন্য নয়।

৫. কথার ভার বুঝে বলুন “তুমিই আমার সব”—এই কথাটি ভালোবাসা থেকে বলা হলেও শিশুর ওপর বিশাল দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়। তার বদলে এমনভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করুন, যাতে সে নিরাপদ বোধ করে—ভারাক্রান্ত নয়।

৬. শিশুকে শিশুর মতো বড় হতে দিন তার পৃথিবী হওয়া উচিত খেলাধুলা, শেখা আর আনন্দে ভরা। সে যেন বুঝতে পারে—বাবা-মায়ের সম্পর্ক ঠিক রাখা তার দায়িত্ব নয়।