ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর তেল আবিবের কাছে পেটাহ টিকভায় অবস্থিত একটি ড্রোন তৈরির কারখানা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম ওয়ানা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর জন্য বিভিন্ন ড্রোন ও যন্ত্রাংশ তৈরির কাজে ব্যবহৃত ‘অ্যারোসোল’ নামক কারখানাটিতে একটি ভারী ওয়ারহেডবাহী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যার ফলে এটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
অ্যারোসোল-এর সিইও জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এতটাই ভয়াবহ যে কারখানাটি আর কার্যক্রম শুরু করতে পারবে না। তিনি উল্লেখ করেন, শক্তিশালী বিস্ফোরণের ফলে অবকাঠামো, উৎপাদন যন্ত্রপাতি এবং প্রশাসনিক অফিসগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল যখন মাত্র দুই দিন আগেই কোম্পানিটি প্রায় ৩৫ মিলিয়ন শেকেল মূল্যের একটি চুক্তির মাধ্যমে একটি নিরাপত্তা সংস্থার কাছে বিক্রি করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শিল্প এলাকার সীমানার কাছে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে এবং বিস্ফোরণটি কারখানার বিভিন্ন অংশে মারাত্মক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।
ওয়ানার প্রতিবেদনে এই দাবির স্বপক্ষে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে।
এদিকে রবিবার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি ছবি পোস্ট করেছেন, যা ইরানি বাহিনীর হাতে ভূপাতিত হওয়া একটি মার্কিন বিমানের ধ্বংসাবশেষ বলে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে, ইরানি বার্তা সংস্থা ফারস দাবি করেছিল যে, নিখোঁজ একজন মার্কিন বিমান সেনাকে খুঁজে বের করার মিশনে নিয়োজিত একটি মার্কিন সি-১৩০ ক্যাটাগরির বিমানকে ইরানি পুলিশের একটি কমান্ডো ইউনিট ধ্বংস করেছে।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় ১২০টি হামলার দাবি করেছে ইসরায়েল। রবিবার (৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, “বিমান বাহিনী মধ্য ও পশ্চিম ইরানে ইরানি শাসনের ১২০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।”
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, “আক্রান্ত লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অ্যারে সাইট, ইউএভি সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।”
তবে ইসরায়েল তাদের এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পেশ করেনি।